সময় বেলা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির জামিন নাকচ



একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির জামিন নাকচ
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির জামিন নাকচ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের ৩ আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন চেম্বার আদালত। বুধবার (৭ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় দণ্ডিতরা হলেন- মো. হরমুজ আলী, মো. আব্দুস সাত্তার, খন্দকার গোলাম রাব্বানী, খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ ও মো. ফখরুজ্জামান।

শুনানি শেষে আপিলকারীদের আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, একই রায়ের ভিত্তিতে ৩টি পৃথক আপিল করা হয়েছে এবং প্রতিটি আপিলেই আসামি মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রাব্বানীর খালাস চাওয়া হয়েছে।

তাদের খালাসের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, ‘মামলায় প্রসিকিউশনের একমাত্র সাক্ষী ছিলেন একজন, যিনি সাক্ষ্য দেয়ার সময় নাবালক ছিলেন। এটিকে আপিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবারের শুনানিতে আমাদের প্রধান প্রার্থনা ছিল জামিন। তবে আদালত জামিন না দিয়ে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানি নিশ্চিত করতে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।’


প্রসিকিউশনে যোগ দেয়া মামলার আপিলকারী আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিমের এ মামলায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তামিম আগে মামলাটিতে ডিফেন্সের ফাইলিং ল’ইয়ার ছিলেন। পরে প্রসিকিউশনে যোগ দেয়ায় নৈতিক কারণে তিনি এখন আপিলকারীদের বিরুদ্ধে এই মামলায় কাজ করতে পারবেন না। কারণ, ডিফেন্সের আইনজীবী হিসেবে তিনি আগেই মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখেছেন।’


এর আগে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ময়মনসিংহের ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গুম ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এই দণ্ড দেয়া হয়।


ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, রায়ের আগে আসামিদের কারাগারে কাটানো সময় সাজা থেকে বাদ যাবে। সে সময় মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন, রেজিয়া সুলতানা চমন ও ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।


রায়ে ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের প্রখ্যাত ভাস্কর আব্দুর রশিদকে জিপ গাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে আসামি খন্দকার গোলাম রাব্বানী ও মো. ফখরুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। পাশাপাশি ত্রিশালের বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ এবং যোতিশ চন্দ্র চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা ও দু’জন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে গুলি করে আহত করার দায়ে আসামি হরমুজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া বৈলরের আব্দুর রহমান মেম্বারকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে আসামি হরমুজ আলীকে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।


অন্যদিকে খন্দকার আব্দুল আলী রতনকে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে আসামি খন্দকার গোলাম রাব্বানী, খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ, মো. ফখরুজ্জামান ও আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তান বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দায়ে আসামি আব্দুস সাত্তারকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া আলোচিত এ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে আসামি ছিলেন কেবল এমএ আব্দুল হান্নান। তবে বিচার চলাকালেই মারা যান তিনি।


এ মামলার রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি ফখরুজ্জামান ও খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ পলাতক ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার কয়েক দিনের মাথায় ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গোড়ান এলাকা থেকে ৬৬ বছর বয়সী ফখরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। পরে তাকে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে দণ্ডিতদের মধ্যে সাব্বির এখনও পলাতক, আর বাকিরা কারাগারে আছেন।


২০১৫ সালের ১৯ মে আলোচিত এ মামলার শুরু হয়। ওইসময় ময়মনসিংহের ত্রিশালের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন মামলাটি দায়ের করেন। পরে ময়মনসিংহের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মামলাটি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত করেন।


পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই বছরের অক্টোবরে প্রসিকিউশনের আবেদনে মামলার ৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই ঢাকায় গ্রেপ্তার হন এমএ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ এবং ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হন।


মামলার মোট ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিচার চলাকালেই কারাগারে মারা যান জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আব্দুল হান্নান, তার ছেলে মো. রফিক সাজ্জাদ ও মিজানুর রহমান মিন্টু। ফলে মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ জনে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয় এবং ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির জামিন নাকচ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের ৩ আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন চেম্বার আদালত। বুধবার (৭ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় দণ্ডিতরা হলেন- মো. হরমুজ আলী, মো. আব্দুস সাত্তার, খন্দকার গোলাম রাব্বানী, খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ ও মো. ফখরুজ্জামান।

শুনানি শেষে আপিলকারীদের আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, একই রায়ের ভিত্তিতে ৩টি পৃথক আপিল করা হয়েছে এবং প্রতিটি আপিলেই আসামি মো. ফখরুজ্জামান, মো. আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রাব্বানীর খালাস চাওয়া হয়েছে।

তাদের খালাসের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, ‘মামলায় প্রসিকিউশনের একমাত্র সাক্ষী ছিলেন একজন, যিনি সাক্ষ্য দেয়ার সময় নাবালক ছিলেন। এটিকে আপিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবারের শুনানিতে আমাদের প্রধান প্রার্থনা ছিল জামিন। তবে আদালত জামিন না দিয়ে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানি নিশ্চিত করতে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।’


প্রসিকিউশনে যোগ দেয়া মামলার আপিলকারী আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিমের এ মামলায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তামিম আগে মামলাটিতে ডিফেন্সের ফাইলিং ল’ইয়ার ছিলেন। পরে প্রসিকিউশনে যোগ দেয়ায় নৈতিক কারণে তিনি এখন আপিলকারীদের বিরুদ্ধে এই মামলায় কাজ করতে পারবেন না। কারণ, ডিফেন্সের আইনজীবী হিসেবে তিনি আগেই মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখেছেন।’


এর আগে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ময়মনসিংহের ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গুম ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এই দণ্ড দেয়া হয়।


ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, রায়ের আগে আসামিদের কারাগারে কাটানো সময় সাজা থেকে বাদ যাবে। সে সময় মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন, রেজিয়া সুলতানা চমন ও ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।


রায়ে ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের প্রখ্যাত ভাস্কর আব্দুর রশিদকে জিপ গাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে আসামি খন্দকার গোলাম রাব্বানী ও মো. ফখরুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। পাশাপাশি ত্রিশালের বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ এবং যোতিশ চন্দ্র চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা ও দু’জন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে গুলি করে আহত করার দায়ে আসামি হরমুজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া বৈলরের আব্দুর রহমান মেম্বারকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে আসামি হরমুজ আলীকে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।


অন্যদিকে খন্দকার আব্দুল আলী রতনকে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে আসামি খন্দকার গোলাম রাব্বানী, খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ, মো. ফখরুজ্জামান ও আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তান বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দায়ে আসামি আব্দুস সাত্তারকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া আলোচিত এ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে আসামি ছিলেন কেবল এমএ আব্দুল হান্নান। তবে বিচার চলাকালেই মারা যান তিনি।


এ মামলার রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি ফখরুজ্জামান ও খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমেদ পলাতক ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার কয়েক দিনের মাথায় ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গোড়ান এলাকা থেকে ৬৬ বছর বয়সী ফখরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। পরে তাকে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে দণ্ডিতদের মধ্যে সাব্বির এখনও পলাতক, আর বাকিরা কারাগারে আছেন।


২০১৫ সালের ১৯ মে আলোচিত এ মামলার শুরু হয়। ওইসময় ময়মনসিংহের ত্রিশালের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন মামলাটি দায়ের করেন। পরে ময়মনসিংহের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মামলাটি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত করেন।


পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই তদন্ত সংস্থা আসামিদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই বছরের অক্টোবরে প্রসিকিউশনের আবেদনে মামলার ৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই ঢাকায় গ্রেপ্তার হন এমএ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ এবং ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হন।


মামলার মোট ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিচার চলাকালেই কারাগারে মারা যান জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আব্দুল হান্নান, তার ছেলে মো. রফিক সাজ্জাদ ও মিজানুর রহমান মিন্টু। ফলে মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ জনে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয় এবং ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ময়মনসিংহের দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির জামিন নাকচ
0:00 / 0:00
1x