সময় বেলা

আর্কাইভ দেখুন

ইয়াবা গায়েব: কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব প্রত্যাহার

ইয়াবা গায়েব: কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব প্রত্যাহার

মো. শাহজাহান বাশারকক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জব্দ করা প্রায় এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালি থানায় নতুন ওসি হিসেবে পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।সিএমপি কমিশনার জানান, ইয়াবা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওসি আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তাধীন রয়েছে।তিনি আরও জানান, একই ঘটনায় বাকলিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেনকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে কিছু নতুন পদায়নও দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল। ওই সময় তার ব্যাগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা থাকার তথ্য উঠে আসে।পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, অভিযানের সময় কনস্টেবলের ব্যাগ থেকে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত মাদক যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে সরিয়ে ফেলা হয়।ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন পান।ঘটনা সামনে আসার পর সিএমপি গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।তবে পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, ব্যাগ তল্লাশির ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার প্রমাণ মিলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


রাজধানীতে জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উদ্বোধন

রাজধানীতে জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উদ্বোধন

মো. শাহজাহান বাশাররাজধানীর কেআইবি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উদ্বোধন করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। দেশের ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার কার্যক্রমের সূচনা ঘোষণা করেন। পরে তিনি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর Krishibid Institution Bangladesh প্রাঙ্গণে, যেখানে কৃষিবিদ, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতে ফল উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় ফল উৎপাদন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই নয়, বরং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নত জাতের ফল উৎপাদন, গবেষণা এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফল এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে একটি লাভজনক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে।জাতীয় ফল মেলা ২০২৬-এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা নানা জাতের দেশীয় ও আধুনিক ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ফল স্থান পেয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নতুন জাতের ফল চাষের প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতি প্রদর্শন করছেন, যা সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।মেলায় অংশগ্রহণকারী দর্শনার্থীরা সরাসরি কৃষি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। পুরো মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে রয়েছে উৎসবের আমেজ, প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও কৃষি উদ্ভাবনের সমন্বিত চিত্র।আয়োজকরা জানিয়েছেন, জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ আগামী কয়েকদিনব্যাপী চলবে এবং প্রতিদিনই নানা সেমিনার, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় ফল মেলা শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং দেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।


বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

মো. শাহজাহান বাশা কুমিল্লা নগরীর অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ঐক্য, সৌহার্দ্য এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সমিতির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা ঢিপ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মমিন ফেরদৌস, ইরান ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির উপদেষ্টা শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ নূরে আলম ভূঁইয়া এবং ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল আলম ভূঁইয়া (মঞ্জু)। এছাড়াও সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সততা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি সুস্থ ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ধরনের সম্মাননা ব্যবসায়ীদের কাজের প্রতি উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।বক্তারা আরও বলেন, ব্যবসায়ী সমাজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমবায় সমিতির এমন উদ্যোগ অন্য ব্যবসায়ী সংগঠনের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।পুরস্কার বিতরণ শেষে অতিথিদের সম্মানে শুভেচ্ছা বিনিময়, ফটোসেশন এবং মিলনমেলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। ব্যবসায়ী ও উপস্থিত অতিথিরা আয়োজকদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ

অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ

মো.শাহজাহান বাশাররাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নকলনবিশ মো. গিয়াসউদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্র, ভুক্তভোগী ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও তিনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে অনেকেই তাকে ‘বিকল্প সাব-রেজিস্ট্রার’ নামে অভিহিত করেন।অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গিয়াসউদ্দিন পুরো অফিসে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। দলিল অনুসন্ধান, নকল উত্তোলন, রেকর্ড যাচাই, দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্য এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অত্যন্ত মূল্যবান আবাসিক বা বসতভিটার জমিকে দলিলে ‘নাল জমি’ বা কৃষিজমি হিসেবে উল্লেখ করে কম মূল্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৩ মে সম্পাদিত ৩৪৫৯ নম্বর সাব-কবলা দলিলের তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১০.৬৬ কাঠা মূল্যবান আবাসিক জমি হস্তান্তরের সময় দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ঘটনায় সরকার বিপুল পরিমাণ নিবন্ধন ফি ও কর থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।আরও অভিযোগ রয়েছে, অফিসের রেকর্ডরুমে বিধি-বহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়। দলিল অনুসন্ধান ও নকল উত্তোলনের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করা হয়, তার সঙ্গে সরকারি ট্রেজারিতে জমাকৃত অর্থের মিল পাওয়া যায় না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিটি ধাপেই অলিখিত ঘুষের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি দলিল নিবন্ধিত হলেও এলাকার জমির উচ্চমূল্যের কারণে প্রতিটি নিবন্ধন থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্রের যোগসাজশে মালিকানার ইতিহাস যথাযথভাবে যাচাই না করেই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাল কাগজপত্র ও অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দলিল নিবন্ধন করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মালিকরা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গিয়াসউদ্দিন অফিসে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উচ্চপর্যায়ে তার শক্তিশালী যোগাযোগ ছিল এবং সে সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও রহস্যজনকভাবে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে একই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে, সুশাসন ও ভূমি প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যদি এ ধরনের অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা শুধু সরকারি কোষাগারের জন্যই নয়, বরং দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং জনগণের আস্থার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।এ পরিস্থিতিতে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাম্প্রতিক দলিল নিবন্ধন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ট্রেজারিতে রাজস্ব জমার হিসাব, নকল উত্তোলন ও সার্চ ফি আদায়ের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।প্রতিবেদন প্রকাশের আগে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নকলনবিশ মো. গিয়াসউদ্দিন এবং সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


 নিট বেতন বৃদ্ধি কিছুটা কম হবে

নিট বেতন বৃদ্ধি কিছুটা কম হবে

সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ইনসেনটিভ বাতিল হওয়ায় প্রকৃত বেতন বা নিট বৃদ্ধি ঘোষিত হারের তুলনায় কিছুটা কম হবে বলে জানা গেছে।বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু রয়েছে। এ সুবিধার আওতায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নবম পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিশেষ সুবিধা পৃথকভাবে আর দেওয়া হবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে কাগজেকলমে মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও প্রকৃত বা নিট বেতন বৃদ্ধির হার হবে তুলনামূলক কম।হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির পুরো সুবিধা হাতে পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতনকে শক্তিশালী করাই নতুন পেস্কেলের অন্যতম লক্ষ্য। এতে অবসরপরবর্তী সুবিধা যেমন পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।নবম পে স্কেল  বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি যুক্ত করলে এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।বাজেট অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম পেস্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে কারণে জুলাই থেকে পে স্কেল  কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ কর্মকর্তাকর্মচারীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন


শিক্ষাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

শিক্ষাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

দেশের নতুন প্রজন্মকে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার গণ্ডি থেকে বের করে দক্ষ, চিন্তাশীল এবং পরিবেশ-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ মহোৎসব। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাঙ্গনে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ কোটি দেশীয় গাছের চারা রোপণের সবুজায়ন মহাযজ্ঞ।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দলের বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শনী এবং একযোগে ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির  উদ্বোধন করবেন। প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বড় মাইলফলক অর্জন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।নতুন এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এবং ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচি দুটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।এ বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে চাই। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়াগুলো থেকে স্থানীয় অনেক সমস্যা স্থানীয়ভাবেই সমাধান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্টার্টআপের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ উন্মোচিত হবে।’বৃক্ষরোপণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরাই অগ্রসৈনিক হিসেবে কাজ করতে পারে। তারাই আগামীতে জলবায়ু মোকাবিলার মূল হাতিয়ার হবে। সে কারণেই সব কর্মসূচি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করা হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য আগামীদিনের প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মাঝে জলবায়ু সচেতনতা তৈরি করা, যাতে তারা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযুক্ত অংশীদার হয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।’মাউশির ইইএসএস স্কিম জানায়, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই মেগা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। মাউশি জানিয়েছে, জাতীয় এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রতি দলে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই শোকেজিং প্রোগ্রামটি মূলত তিনটি স্তরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ১২ জুন দেশব্যাপী সব উপজেলা ও থানায় একযোগে এই শোকেজিং প্রোগ্রাম শেষ হয়েছে। এই পর্যায় থেকে বাছাইকৃত সেরা দলগুলো গত রোববার জেলা পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট বা ইনোভেশন আইডিয়া শোকেজিং করে।মাউশি সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত দলগুলো নিয়ে আগামী ২৭ জুন ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্বে তৃণমূল থেকে নির্বাচিত ১০০টি দল অংশ নেবে। পরদিন ২৮ জুন রাজধানী ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেবেন।মাউশি আরও জানায়, জাতীয় পর্যায়ে প্রজেক্ট প্রদর্শনকারী দলগুলোর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আকর্ষণীয় আর্থিক পুরস্কার ও সনদপত্র দেওয়া হবে।ইইএসএস স্কিম জানায়, শিক্ষকদের আধুনিক ও প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে মেন্টরিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ মনোনীত শিক্ষকেরা পুরস্কার হিসেবে পাবেন ৩০ হাজার টাকা এবং একটি সনদপত্র। মনোনীত শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ পাবে ২০ হাজার টাকা এবং একটি যোগ্যতা সনদপত্র।এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)-এর পরিচালক প্রফেসর মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গত ১২ জুন উপজেলা পর্যায়ের এবং ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল নিয়ে আগামী ২৭ জুন ঢাকায় চূড়ান্ত মূল্যায়ন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিচারকগণ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে বিজয়ী দলগুলো নির্বাচন করবেন। পরদিন ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হবে।প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত, মৌলিক মূল্যবোধ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই স্কিমের প্রধান উদ্দেশ্য। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিশ্চিত করা, ‘আনন্দের সাথে শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নিশ্চিত করা, সু-শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিভাবান শিক্ষক তৈরি করা, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা এবং সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া।শুরু হচ্ছে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিএদিকে শোকেজিং কর্মসূচির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাঙ্গনে শুরু হতে যাচ্ছে সবুজায়ন মহাযজ্ঞ। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পাঁচ কোটি দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।মাউশি লেইস প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এই কর্মসূচিতে আম, জাম, কাঁঠাল, নিম ও অর্জুনের মতো দেশীয় গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।মাউশির জনায়, আগামী ২৮ জুন দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসাসহ মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ক্যাম্পাসে একটি গাছ রোপণ করবেন এবং একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে সেই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।লেইস প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান  জানান, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি একযোগে সারাদেশে সম্প্রচার করা হবে। এর মধ্যে দেশের ১০০টি বিশেষ সেন্টারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরাসরি মাঠপর্যায়ের যেকোনো সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বোধনের দিন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম তিনটি করে গাছ লাগানো হবে। যার মধ্যে একটি ফলদ ও একটি বনজ গাছ থাকবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি সম্পন্ন করা হবে।


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকার এখানে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংস্কারের পথরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে হবে, যাতে সেগুলো সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।


দুই নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতার উদ্যোগ, চিঠি পাঠাল মন্ত্রিপরিষদ

দুই নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতার উদ্যোগ, চিঠি পাঠাল মন্ত্রিপরিষদ

সমতল ও পাহাড়ে বসবাস করা সকলের অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগেই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বিএনপির সেই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পরই দেশের অতি ক্ষুদ্র দুই নৃগোষ্ঠী ওঁরাও ও মাহাতো জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার।এই দুই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ওঁরাও ও মাহাতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক।প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘উল্লেখিত দুই জনগোষ্ঠী সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে অবস্থান করছে।দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যসীমা হতে উত্তরণ না ঘটলে এই জনগোষ্ঠী বংশানুক্রমিকভাবে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেমন-শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ইত্যাদি হতে বঞ্চিত থেকে যাবে।’ জেলা প্রশাসকের এমন প্রস্তাব আমলে নিয়েছে সরকার।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়নের জন্য ৬টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক জোন স্থাপন বিষয়ক। অন্যটি ওঁরাও ও মাহাতো জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার।ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে করণীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতেও বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ৬টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, প্রতিবছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে ওঁরাও জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৮৫,৮৪৬ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ওরাওঁ জনগোষ্ঠীর হার ৫.২০ শতাংশ।ঐতিহাসিকভাবে তারা প্রধানত রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বরেন্দ্র ভূমিতে বসবাস করে। আর ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাহাতো জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৯ হাজার ২৭১ জন। বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মোট জনসংখ্যার মধ্যে তারা ১৯,২৭১ জন। দেশে বসবাসরত মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যার প্রায় ১.১৭ শতাংশ।সরকার গঠনের আগে গত আগস্টে ময়মনসিংহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সব জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ দেশ গড়তে চায় বিএনপি।’প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে একেকটি ‘রঙ’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে আমরা বলেছি রেইনবো ন্যাশন বৈচিত্রের মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। সকল জাতিগোষ্ঠী মিলেমিশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর।’সমতল ও পাহাড়ে বসবাস করা সকলের অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় বিএনপির বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ও দলীয় কমিটিতে যোগ্য প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ট্রাইব্যুনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে ট্রাস্ট হিসেবে মর্যাদা প্রদান, দেশি-বিদেশি প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, নারী উদ্যোক্তাকে সহজে ঋণ প্রদান বাস্তবায়নে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে’।পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠী নিজ দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন থাকলে কোনো অপশক্তি বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নিতে পারবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


ট্রাম্প নিজেকে ‘বস’ বলতেই হেসে উঠলেন বিশ্বনেতারা

ট্রাম্প নিজেকে ‘বস’ বলতেই হেসে উঠলেন বিশ্বনেতারা

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর জি–৭ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছেন স্বাগতিক দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।  তবে স্থানীয় বুধবার (১৭ জুন) সম্মেলনের শেষ দিনের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত দেন, তিনি নিজেকেই সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা মনে করেন।সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের সকালে অন্যান্য নেতারা যখন ইতোমধ্যে নিজেদের আসনে বসে গেছেন, তখন ট্রাম্প প্রবেশ করে বলেন, ‘আমিই বস’। এ সময় উপস্থিতদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।  ম্যাক্রোঁও মন্তব্যটি হাস্যরসের সঙ্গেই নেন। তিনি ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেমন আছেন?’জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো, ধন্যবাদ।’ এরপর তিনি নিজের আসনে বসেন।প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ট্রাম্প ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর সঞ্চালক, যেখানে তার বিখ্যাত সংলাপ ছিল, ‘বেরিয়ে যান ( ইউ আর ফায়ারড)’।  সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করা এবং নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্পের উপস্থিতিই এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এভিয়ান শহরে। ফরাসি কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট যে ট্রাম্প পুরো সম্মেলনজুড়ে উপস্থিত ছিলেন এবং জি–৭-এর যৌথ ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে কানাডায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে গিয়েছিলেন।সম্মেলন শেষে বুধবার বিকেলে প্যারিসের বাইরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে সমালোচনার মুখে পড়তে না চেয়ে ম্যাক্রোঁ আগেই স্পষ্ট করেছেন, ভার্সাইয়ের ওই আয়োজন কোনো ‘জাঁকজমকপূর্ণ গালা ডিনার’ হবে না।


বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন

বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।রোববার (১৪ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন।নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনই বর্তমানে জীবিত আছেন।সংসদ অধিবেশনে এমপি বলেন, আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিলের সময় তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।তবে হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।জানা গেছে, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন এবং তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করেন।এ ব্যাপারে মোবাইলে জানতে চাইলে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুনতাকিম বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে আমি অসুস্থ ছিলাম। মাথায় ছিল প্রচন্ড ব্যথা। সংসদে কি বলেছি, তা বুঝতে পারছি না। আসলে আমার বাবা বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে ভুল কিছু বলে থাকলে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।


১২ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

১২ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগামী ২ জুলাই থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।বদলি ও পদায়ন হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হোসেনকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি), বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারহানা আফরোজ জেমিকে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে নড়াইল সদর সার্কেলে, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সায়েম ইউসুফকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পহন চাকমাকে নওগাঁ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মশিয়ার রহমানকে রাঙ্গামাটির ১৮ এপিবিএনে, সাতক্ষীরার তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সার্কেলে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহান-উল-ইমামকে ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার এস. এম. মাহবুবুল আলমকে সিআইডিতে, র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিয়া লতিফুল ইসলামকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শেখ মো. আব্দুর রাজ্জাককে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।


পীরগঞ্জে ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ আটক যুবক

পীরগঞ্জে ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ আটক যুবক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভাবনাগঞ্জ বাজার এলাকায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।আজ (১৮ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম (পিতা: হাসা মোহাম্মদ) দীর্ঘদিন ধরে ছাগল ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবারে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ ছিল। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে স্থানীয়রা তাকে নজরদারিতে রাখেন।এসময় তার কাছে থাকা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধার করা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।


ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সারুপ (১২) নামের এক স্কুলছাত্রের মরদেহ প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নামে সারুপ। একপর্যায়ে সে নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।বুধবার সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টার পর বিকেলে নদী থেকে সারুপের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত সারুপ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।উদ্ধার অভিযানের সময় ঠাকুরগাঁও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু হানিফ মুক্তার, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।