ইসলামের শান্তি, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার আদর্শ সমুন্নত রেখে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার শরীফের পীর ও আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি হযরত শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনৈতিক, অমানবিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর ৮২, শাহ্ আলীবাগস্থ কেন্দ্রীয় খানকাহ্ রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার মসজিদে গাউছুল আ’যম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শাহাদাত-এ কারবালা মাহফিল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হযরত শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী বলেন, ইসলাম মানবতা, ন্যায়, ভারসাম্য ও সহনশীলতার ধর্ম। সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এসব অপতৎপরতা কোনো রাষ্ট্র, সমাজ বা জাতির জন্য কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং বিভাজন, অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের জন্ম দেয়। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
তিনি বলেন, একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো পরমতসহিষ্ণুতা, শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং আত্মিক ও নৈতিক উৎকর্ষ অর্জনের নিরন্তর সাধনা। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে সংঘাত নয়, বরং সৌহার্দ্য, সংলাপ ও মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
তিনি আরও বলেন, একটি ক্ষুদ্র উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ, সমাজ ও ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অনৈতিক, অমানবিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
কারবালার চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পবিত্র কারবালার শিক্ষা সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও মানবমর্যাদা রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই চেতনা মানুষকে অন্যায়, জুলুম, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
মাহফিলে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লার ঘিলাতলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মুফতি মাওলানা বাকিবিল্লাহ আল-আজহারী, আঞ্জুমানের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আলহাজ মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, মিরপুর-১ মসজিদে গাউছুল আ’যমের খতিব হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুফতি মাকসুদুর রহমান, মাওলানা মনছুর আলী, মাওলানা খাজা বাহাউদ্দীন ও মাওলানা মোহাম্মদ কেরামত আলী।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখে ইযাম, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের খলিফাবৃন্দ, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দ, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শেষে মিলাদ, কিয়াম ও সালাত-সালাম অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
ইসলামের শান্তি, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার আদর্শ সমুন্নত রেখে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার শরীফের পীর ও আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি হযরত শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনৈতিক, অমানবিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর ৮২, শাহ্ আলীবাগস্থ কেন্দ্রীয় খানকাহ্ রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার মসজিদে গাউছুল আ’যম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শাহাদাত-এ কারবালা মাহফিল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হযরত শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী বলেন, ইসলাম মানবতা, ন্যায়, ভারসাম্য ও সহনশীলতার ধর্ম। সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এসব অপতৎপরতা কোনো রাষ্ট্র, সমাজ বা জাতির জন্য কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং বিভাজন, অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের জন্ম দেয়। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
তিনি বলেন, একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো পরমতসহিষ্ণুতা, শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং আত্মিক ও নৈতিক উৎকর্ষ অর্জনের নিরন্তর সাধনা। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে সংঘাত নয়, বরং সৌহার্দ্য, সংলাপ ও মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
তিনি আরও বলেন, একটি ক্ষুদ্র উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশ, সমাজ ও ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অনৈতিক, অমানবিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
কারবালার চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পবিত্র কারবালার শিক্ষা সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও মানবমর্যাদা রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই চেতনা মানুষকে অন্যায়, জুলুম, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে।
মাহফিলে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লার ঘিলাতলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মুফতি মাওলানা বাকিবিল্লাহ আল-আজহারী, আঞ্জুমানের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আলহাজ মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, মিরপুর-১ মসজিদে গাউছুল আ’যমের খতিব হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুফতি মাকসুদুর রহমান, মাওলানা মনছুর আলী, মাওলানা খাজা বাহাউদ্দীন ও মাওলানা মোহাম্মদ কেরামত আলী।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখে ইযাম, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের খলিফাবৃন্দ, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দ, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শেষে মিলাদ, কিয়াম ও সালাত-সালাম অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী।

আপনার মতামত লিখুন