নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও সংরক্ষণাগারের অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নবনির্মিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশের অনেক জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। কোথাও না কোথাও অন্তত অতিথি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমনের আগে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এখানে এসে আমি হতাশ হয়েছি। হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা আমি মোটেও আশা করিনি।”
তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “পরশুদিন পর্যন্ত সময় দিয়ে গেলাম। যেসব কালো পাতিল, ভাঙাচোরা জিনিসপত্র এবং অপ্রয়োজনীয় মালামাল জমিয়ে রাখা হয়েছে, সব সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজন হলে ভাঙারির কাছে বিক্রি করে দিন। হাসপাতালে এত দাহ্য পদার্থ ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে রোগীদের জীবন বিপন্ন হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা কি নিজেদের বাসায় এ ধরনের কালো ও অপরিচ্ছন্ন পাতিল ব্যবহার করেন? তাহলে হাসপাতালে কেন রাখা হয়েছে? রোগীরা গরিব হতে পারে, কিন্তু তাদের জন্য নিম্নমানের পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না।”
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মন্ত্রী বলেন, “আমি অনুরোধ করবো, আপনি জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রান্নাঘর, বাথরুম ও হাসপাতালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করুন। দুই দিনের মধ্যে এসব অনিয়ম দূর করতে হবে।”
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর দিতে পারেন না। একটি হাসপাতালের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।”
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের মতো দায়িত্বহীনভাবে কাজ করার সুযোগ আর থাকবে না। সরকার স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন আনতে চায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মকর্তাদেরও মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।”
এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির, জেলার সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও সংরক্ষণাগারের অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নবনির্মিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশের অনেক জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। কোথাও না কোথাও অন্তত অতিথি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমনের আগে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এখানে এসে আমি হতাশ হয়েছি। হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা আমি মোটেও আশা করিনি।”
তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “পরশুদিন পর্যন্ত সময় দিয়ে গেলাম। যেসব কালো পাতিল, ভাঙাচোরা জিনিসপত্র এবং অপ্রয়োজনীয় মালামাল জমিয়ে রাখা হয়েছে, সব সরিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজন হলে ভাঙারির কাছে বিক্রি করে দিন। হাসপাতালে এত দাহ্য পদার্থ ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে রোগীদের জীবন বিপন্ন হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা কি নিজেদের বাসায় এ ধরনের কালো ও অপরিচ্ছন্ন পাতিল ব্যবহার করেন? তাহলে হাসপাতালে কেন রাখা হয়েছে? রোগীরা গরিব হতে পারে, কিন্তু তাদের জন্য নিম্নমানের পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না।”
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মন্ত্রী বলেন, “আমি অনুরোধ করবো, আপনি জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রান্নাঘর, বাথরুম ও হাসপাতালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শন করুন। দুই দিনের মধ্যে এসব অনিয়ম দূর করতে হবে।”
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর দিতে পারেন না। একটি হাসপাতালের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।”
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের মতো দায়িত্বহীনভাবে কাজ করার সুযোগ আর থাকবে না। সরকার স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন আনতে চায়। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মকর্তাদেরও মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।”
এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির, জেলার সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন