সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে একের পর এক সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, হামলা ওআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় যুবদলও বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৪ জুন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের জেরে রনির অনুসারীরা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর মাত্র দুই দিন পর, ৬ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ ওঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্র ও লোহার শাবল দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় যুবদল তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ৮ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে ২১ এপ্রিল সদর উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাট এলাকায় ইজারা টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবদল ও এনসিপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খেয়াঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছিল। এরই জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই ঘটনার পর বক্তাবলী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
একইভাবে ৯ এপ্রিল ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান ও রাকিবুল ইসলাম।
ফতুল্লার ঝুট ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেই প্রভাব বিস্তারের লড়াই থেকেই সংঘর্ষ, হামলা ও গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম এবং লিয়ন মাহমুদ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এদিকে ৪ মে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ঘটনার পরদিনই কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত এসব ঘটনায় বারবার যুবদল নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসায় সংগঠনটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাগুলো স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে দলীয় সূত্র বলছে, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় কেন্দ্রীয় যুবদল জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। একের পর এক বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে দল স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছে যে, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক জানান,যুবদল একটি আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার দায় দল নেবে না। তিনি বলেন, “যেসব ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যুবদল কখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না।
অন্যদিকে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের নাম জড়িয়ে যেসব অভিযোগ ও ঘটনাগুলো সামনে আসছে, সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, যুবদল একটি বৃহৎ সংগঠন, এখানে হাজার হাজার কর্মী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো সংগঠনের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, যে বা যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক ঘটনায় বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে দল এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে।
তারপরও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে কেন বারবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠছে, এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কেন এসব ঘটনা থামছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু বহিষ্কার নয়, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। তবেই বিতর্কের এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে একের পর এক সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, হামলা ওআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় যুবদলও বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৪ জুন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের জেরে রনির অনুসারীরা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর মাত্র দুই দিন পর, ৬ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ ওঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্র ও লোহার শাবল দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় যুবদল তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ৮ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে ২১ এপ্রিল সদর উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাট এলাকায় ইজারা টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবদল ও এনসিপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খেয়াঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছিল। এরই জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই ঘটনার পর বক্তাবলী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
একইভাবে ৯ এপ্রিল ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ ইমরান ও রাকিবুল ইসলাম।
ফতুল্লার ঝুট ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেই প্রভাব বিস্তারের লড়াই থেকেই সংঘর্ষ, হামলা ও গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম জসিম এবং লিয়ন মাহমুদ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এদিকে ৪ মে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ঘটনার পরদিনই কেন্দ্রীয় যুবদল তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
গত কয়েক মাসে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত এসব ঘটনায় বারবার যুবদল নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসায় সংগঠনটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাগুলো স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে দলীয় সূত্র বলছে, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় কেন্দ্রীয় যুবদল জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। একের পর এক বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে দল স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছে যে, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক জানান,যুবদল একটি আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার দায় দল নেবে না। তিনি বলেন, “যেসব ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যুবদল কখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না।
অন্যদিকে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের নাম জড়িয়ে যেসব অভিযোগ ও ঘটনাগুলো সামনে আসছে, সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, যুবদল একটি বৃহৎ সংগঠন, এখানে হাজার হাজার কর্মী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো সংগঠনের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, যে বা যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক ঘটনায় বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে দল এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে।
তারপরও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে কেন বারবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠছে, এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কেন এসব ঘটনা থামছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধু বহিষ্কার নয়, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। তবেই বিতর্কের এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে সংগঠনটি।

আপনার মতামত লিখুন