সময় বেলা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর কালীঘাটের ৩২বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিআইডির তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন সিআইডি কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছান। তবে শুরুতে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মকর্তাদের কিছু সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee সে সময় দিল্লিতে অবস্থান করায় তারা উপস্থিত থাকতে পারেননি। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হলেও তিনি উপস্থিত হতে না পেরে চিঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সিআইডির দাবি, তাকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

তল্লাশি চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পশ্চিম বেহালার বিধায়ক Subhasish Chakraborty, কামারহাটির বিধায়ক Madan Mitra, বেলেঘাটার বিধায়ক Kunal Ghosh এবং সাংসদ Kalyan Banerjee।

প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৮ থেকে ১০ জন সিআইডি কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধিদলকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং সংশ্লিষ্ট অফিস কক্ষ তল্লাশি করেন। বাইরে আরও ১৫ থেকে ১৬ জন নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা মোতায়েন ছিলেন।

তল্লাশি অভিযান ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কালীঘাট থানার পুলিশ সদস্যরা এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। এ সময় স্থানীয়দের চলাচলেও কিছুটা প্রভাব পড়ে।

তবে তৃণমূলের একাধিক নেতার দাবি, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত না থাকায় এই তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ লোকজন রয়েছেন বলে তাদের আশঙ্কা।

অন্যদিকে কুনাল ঘোষ বলেন, তিনি অন্য কাজে বাইরে ছিলেন। হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে সিআইডির তল্লাশির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই তৃণমূলের মূল কার্যালয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনের সড়কে চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ছিল। তবে তল্লাশি চলাকালে সাধারণ মানুষের যাতায়াত তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং তল্লাশি থেকে কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর কালীঘাটের ৩২বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিআইডির তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন সিআইডি কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছান। তবে শুরুতে তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মকর্তাদের কিছু সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee সে সময় দিল্লিতে অবস্থান করায় তারা উপস্থিত থাকতে পারেননি। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করা হলেও তিনি উপস্থিত হতে না পেরে চিঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সিআইডির দাবি, তাকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

তল্লাশি চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পশ্চিম বেহালার বিধায়ক Subhasish Chakraborty, কামারহাটির বিধায়ক Madan Mitra, বেলেঘাটার বিধায়ক Kunal Ghosh এবং সাংসদ Kalyan Banerjee।

প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৮ থেকে ১০ জন সিআইডি কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধিদলকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং সংশ্লিষ্ট অফিস কক্ষ তল্লাশি করেন। বাইরে আরও ১৫ থেকে ১৬ জন নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা মোতায়েন ছিলেন।

তল্লাশি অভিযান ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কালীঘাট থানার পুলিশ সদস্যরা এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। এ সময় স্থানীয়দের চলাচলেও কিছুটা প্রভাব পড়ে।

তবে তৃণমূলের একাধিক নেতার দাবি, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত না থাকায় এই তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ লোকজন রয়েছেন বলে তাদের আশঙ্কা।

অন্যদিকে কুনাল ঘোষ বলেন, তিনি অন্য কাজে বাইরে ছিলেন। হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে সিআইডির তল্লাশির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই তৃণমূলের মূল কার্যালয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনের সড়কে চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ছিল। তবে তল্লাশি চলাকালে সাধারণ মানুষের যাতায়াত তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং তল্লাশি থেকে কী তথ্য বা নথি উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির তল্লাশি
0:00 / 0:00
1x