সময় বেলা

হাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় নয়, বিকল্প ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা হবে: মীর শাহে আলম



হাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় নয়, বিকল্প ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা হবে: মীর শাহে আলম
হাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় নয়

মো. শাহজাহান বাশার

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের কোনো মহাসড়ক বা সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় কিংবা ল্যান্ডফিল স্থাপন করা যাবে না। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে রূপগঞ্জ পৌরসভার জন্য পৃথকভাবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও ময়লা ফেলার জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রূপগঞ্জ পৌরসভার জন্য আমরা আলাদা ময়লা ফেলার জায়গার ব্যবস্থা করছি। সেখানে পৌরসভার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্যও সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের পর বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলকে দ্রুত পাঠানো হবে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু করবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে বর্জ্যও অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে।”

মীর শাহে আলম বলেন, “ঈদের ছুটির সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হয়তো এখানে বর্জ্য ফেলেছে। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি দ্রুত এটি পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে গত দুই দিন ধরে অপসারণ কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এখানে ময়লা ফেলতে না পারে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তিনি জানান, সরকার দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, কোনো রাস্তার ধারে, মহাসড়কের পাশে কিংবা জনবসতির নিকটবর্তী স্থানে বর্জ্যের ভাগাড় তৈরি করা যাবে না। পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নগর ও গ্রামীণ এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হবে।

বক্তব্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গতকাল কক্সবাজারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়ের পাশে অবৈধভাবে ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


হাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় নয়, বিকল্প ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা হবে: মীর শাহে আলম

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

মো. শাহজাহান বাশার

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশের কোনো মহাসড়ক বা সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় কিংবা ল্যান্ডফিল স্থাপন করা যাবে না। পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে রূপগঞ্জ পৌরসভার জন্য পৃথকভাবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও ময়লা ফেলার জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রূপগঞ্জ পৌরসভার জন্য আমরা আলাদা ময়লা ফেলার জায়গার ব্যবস্থা করছি। সেখানে পৌরসভার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্যও সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করছে। তারা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের পর বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলকে দ্রুত পাঠানো হবে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু করবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে বর্জ্যও অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে।”

মীর শাহে আলম বলেন, “ঈদের ছুটির সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হয়তো এখানে বর্জ্য ফেলেছে। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি দ্রুত এটি পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে গত দুই দিন ধরে অপসারণ কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এখানে ময়লা ফেলতে না পারে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তিনি জানান, সরকার দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, কোনো রাস্তার ধারে, মহাসড়কের পাশে কিংবা জনবসতির নিকটবর্তী স্থানে বর্জ্যের ভাগাড় তৈরি করা যাবে না। পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নগর ও গ্রামীণ এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হবে।

বক্তব্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গতকাল কক্সবাজারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়ের পাশে অবৈধভাবে ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
হাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় নয়, বিকল্প ল্যান্ডফিল গড়ে তোলা হবে: মীর শাহে আলম
0:00 / 0:00
1x