কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. কাউছারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের নন্দীরবাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
নিহত কাউছার কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা কবিরের ছোট ভাই।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিল এলাকায় একটি জমি দেখতে গেলে কাউছার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর হামলা হয়। এতে কাউছারের মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটির মালিকানা নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি সালিস বৈঠক হয়েছিল। এর পরদিন জমি দেখতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাউছারের সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী শামিম এ ঘটনায় নন্দীরবাজার এলাকার তৌহিদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভের পর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা
কাউছারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন নন্দীরবাজার এলাকায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দাবি
যুবদল নেতা কাউছার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে অভিযুক্তের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও জানা যায়নি।
কাউছার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. কাউছারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের নন্দীরবাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
নিহত কাউছার কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা কবিরের ছোট ভাই।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিল এলাকায় একটি জমি দেখতে গেলে কাউছার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর হামলা হয়। এতে কাউছারের মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটির মালিকানা নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি সালিস বৈঠক হয়েছিল। এর পরদিন জমি দেখতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাউছারের সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী শামিম এ ঘটনায় নন্দীরবাজার এলাকার তৌহিদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভের পর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা
কাউছারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন নন্দীরবাজার এলাকায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দাবি
যুবদল নেতা কাউছার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে অভিযুক্তের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও জানা যায়নি।
কাউছার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন