দীর্ঘদিনের দাবি, মানববন্ধন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে সংস্কার শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক গোয়ালদী শাহী মসজিদের। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মসজিদের চারপাশ ঘুরে দেখার জন্য দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সুলতানি আমলের এই প্রত্নস্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। গম্বুজ, দেয়াল ও অলংকরণে ফাটল এবং ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দেওয়ায় মসজিদটি দ্রুত সংস্কারের দাবি ওঠে। এ দাবিতে চলতি বছরের ৭ মার্চ ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে মসজিদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী, কবি, লেখক, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একই সময়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে মসজিদের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কারকাজের উদ্যোগ নেয়।
ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫১৯ সালে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে মোল্লা হিজবার আকবর খান গোয়ালদী গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি সুলতানি আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন এবং সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অংশ।প্রাচীন আরবীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত মসজিদটির চার কোণায় চারটি গোলাকার কর্নার টাওয়ার, পশ্চিম দেয়ালে কালো পাথরের কারুকার্যমণ্ডিত কেন্দ্রীয় মেহরাব এবং দেয়ালজুড়ে পোড়ামাটির অলংকরণ রয়েছে। লাল চিকন ইটের তৈরি এ স্থাপনাটি সুলতানি আমলের নির্মাণশৈলীর অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।দীর্ঘ সময় অযত্নে পড়ে থাকায় মসজিদের গম্বুজ ও দেয়ালের বেশ কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সর্বশেষ সংস্কারকাজে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত করা হয়েছে।
গোয়ালদী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মো.আরমান বলেন, অনেক বছর ধরে আমরা মসজিদটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। মানববন্ধন হয়েছে, বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। অবশেষে সরকার মসজিদটি সংস্কার করায় আমরা খুবই আনন্দিত। এখন দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা নিরাপদে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে পারবেন। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মসজিদটির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা হবে।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহেদ কায়েস বলেন,সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক গোয়ালদী শাহী মসজিদের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তবে সংস্কারকাজে সুলতানি আমলের ছোট ইট তৈরি করে ব্যবহার না করে, এই সময়ের বড় ইট কেটে ছোট করে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনুচিত হয়েছে। প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে মূল উপকরণ, নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা উচিত। আশা করি ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
পানাম নগরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. তানজিলুর রহমান বলেন, গোয়ালদী শাহী মসজিদ বাংলাদেশের সুলতানি আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘদিনের দাবি, মানববন্ধন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে সংস্কার শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক গোয়ালদী শাহী মসজিদের। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মসজিদের চারপাশ ঘুরে দেখার জন্য দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সুলতানি আমলের এই প্রত্নস্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। গম্বুজ, দেয়াল ও অলংকরণে ফাটল এবং ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দেওয়ায় মসজিদটি দ্রুত সংস্কারের দাবি ওঠে। এ দাবিতে চলতি বছরের ৭ মার্চ ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে মসজিদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী, কবি, লেখক, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একই সময়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে মসজিদের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কারকাজের উদ্যোগ নেয়।
ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫১৯ সালে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে মোল্লা হিজবার আকবর খান গোয়ালদী গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি সুলতানি আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন এবং সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অংশ।প্রাচীন আরবীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত মসজিদটির চার কোণায় চারটি গোলাকার কর্নার টাওয়ার, পশ্চিম দেয়ালে কালো পাথরের কারুকার্যমণ্ডিত কেন্দ্রীয় মেহরাব এবং দেয়ালজুড়ে পোড়ামাটির অলংকরণ রয়েছে। লাল চিকন ইটের তৈরি এ স্থাপনাটি সুলতানি আমলের নির্মাণশৈলীর অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।দীর্ঘ সময় অযত্নে পড়ে থাকায় মসজিদের গম্বুজ ও দেয়ালের বেশ কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সর্বশেষ সংস্কারকাজে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত করা হয়েছে।
গোয়ালদী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মো.আরমান বলেন, অনেক বছর ধরে আমরা মসজিদটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। মানববন্ধন হয়েছে, বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। অবশেষে সরকার মসজিদটি সংস্কার করায় আমরা খুবই আনন্দিত। এখন দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা নিরাপদে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে পারবেন। আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মসজিদটির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা হবে।
সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহেদ কায়েস বলেন,সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক গোয়ালদী শাহী মসজিদের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তবে সংস্কারকাজে সুলতানি আমলের ছোট ইট তৈরি করে ব্যবহার না করে, এই সময়ের বড় ইট কেটে ছোট করে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনুচিত হয়েছে। প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে মূল উপকরণ, নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখা উচিত। আশা করি ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
পানাম নগরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. তানজিলুর রহমান বলেন, গোয়ালদী শাহী মসজিদ বাংলাদেশের সুলতানি আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন