সময় বেলা

ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ



ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ
ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে নির্মাণাধীন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। টার্মিনালটি চালু হলে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, রাজধানীকে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত ও যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ঢাকা শহরের ওপর দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের একটি অংশ কাঁচপুরে এবং অন্য একটি অংশ কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে এটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে রাজধানীতে প্রবেশ করা বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার বাস আর ঢাকার কেন্দ্রস্থলে যেতে হবে না। এতে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে এবং যাত্রীসেবাও আরও উন্নত হবে।”

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগের সময়ে রাজধানীর কয়েকটি বাস টার্মিনালকে পরিকল্পনার বাইরে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলে সড়কে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন কার্যক্রমও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।

সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।”

পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতসহ প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী ও সিলেট অঞ্চলের দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার ভেতরে প্রবেশ না করেই এখানে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, অন্যদিকে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থাও আরও সুশৃঙ্খল হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের যানজট কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে নির্মাণাধীন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। টার্মিনালটি চালু হলে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, রাজধানীকে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত ও যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ঢাকা শহরের ওপর দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের একটি অংশ কাঁচপুরে এবং অন্য একটি অংশ কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে এটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে রাজধানীতে প্রবেশ করা বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার বাস আর ঢাকার কেন্দ্রস্থলে যেতে হবে না। এতে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে এবং যাত্রীসেবাও আরও উন্নত হবে।”

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগের সময়ে রাজধানীর কয়েকটি বাস টার্মিনালকে পরিকল্পনার বাইরে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলে সড়কে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন কার্যক্রমও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।

সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।”

পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতসহ প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী ও সিলেট অঞ্চলের দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার ভেতরে প্রবেশ না করেই এখানে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে। এতে একদিকে যেমন রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, অন্যদিকে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থাও আরও সুশৃঙ্খল হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের যানজট কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাজ
0:00 / 0:00
1x