সময় বেলা

আবু সাউদ মাসুদ

আবু সাউদ মাসুদ

সম্পাদক

যোগদান: 22 মে, 2026

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ৭

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ৭নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।আহতদের মধ্যে রয়েছেন তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়েদ, মনির ও ইসমাইল। এছাড়া ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমেদসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন।ছাত্রশিবিরের নেতাদের দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত বলেন, তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলেন। ছাত্রদল নেতা অনিকের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মধ্যে আগে কখনো কথা কাটাকাটিও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।অমিতের অভিযোগ, ছাত্রদলের অনিক তাদের একজন জনশক্তির ওপর হামলা করেছেন। তার দাবি, তোলারাম কলেজে ছাত্রশিবিরের অবস্থানের কারণে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা সম্ভব হচ্ছে না—এমন কারণে ছাত্রদল শিবিরকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ৭তিনি বলেন, ‘তোলারাম কলেজ ছাত্রশিবির অন্য কলেজের মতো নয়। আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা চলে যাব—এমন কোনো কারণ নেই।’ তার দাবি, সংঘর্ষে শিবিরের তিনজন আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে কলেজ শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক রয়েছেন।অমিত আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মসূচিতেও আহতরা অংশ নিয়েছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের ওপর কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের নেতা জিয়া অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন।তিনি বলেন, ‘আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনুষ্ঠান ছিল। গণঅভ্যুত্থান তো সবারই। সবাই এখানে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু তারা পরিকল্পনা করে এসেছে এখানে ঝামেলা করবে।’জিয়ার দাবি, শিবিরের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার এলাকায় আগে থেকেই লোকজন জড়ো করে রেখেছিলেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী সেখানে ছিলেন। তাদের পক্ষ থেকে হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা শুরু করায় পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ছাত্রদলও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কলেজের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই পক্ষকে শান্ত করে।তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সংঘর্ষে চার থেকে পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংঘর্ষের পর চাষাঢ়া, কলেজ রোড ও সরকারি তোলারাম কলেজের আশপাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। এদিকে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ৭