কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকা, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকারের কারণে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় চালকরা ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং গণপরিবহন সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়ক দুই উপজেলার মানুষের জীবনরেখা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকা এবং অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকারের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সড়কের যেসব স্থানে অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকার রয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ বা পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিক স্থানে খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে একের পর এক স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও ট্রাক চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলতে হয়। অনেক সময় যাত্রীদের শারীরিক কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় এসব স্পিড ব্রেকার। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সড়কটির টেকসই সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকা, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকারের কারণে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় চালকরা ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং গণপরিবহন সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়ক দুই উপজেলার মানুষের জীবনরেখা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকা এবং অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকারের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সড়কের যেসব স্থানে অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকার রয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণ বা পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিক স্থানে খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে একের পর এক স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও ট্রাক চালকদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলতে হয়। অনেক সময় যাত্রীদের শারীরিক কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় এসব স্পিড ব্রেকার। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সড়কটির টেকসই সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন