সময় বেলা

গ্রেফতার দাবী

বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে



বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে
বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে

​নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় একাধিক ফৌজদারি অপরাধ ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলাম ও তার ছেলে বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আরিফ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকির একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
​সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আরিফের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর বন্দর থানায় প্রথম দফায় একটি মামলা দায়ের হয় (এফআইআর নং-৫৪/১৭৮)। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় তার বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ, মারধর, সরাসরি হত্যাচেষ্টা এবং চুরির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
​এর আগে ২০১০ সালের ১০ মার্চ বন্দর থানাতেই তার বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা (এফআইআর নং-১৩) রুজু হয়েছিল। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারার ওই মামলায় বেআইনি জনতা গঠন করে পথরোধ, অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম ও অঙ্গহানির মতো নৃশংস অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে।

​কেবল স্থানীয় অপরাধ কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয় এই পরিবার। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় (এফআইআর নং-৪৩, জিআর নং-১০২৩) আরিফকে আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১১৪, ১৪৭, ১৪৮, ১০৯, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
​অনুসন্ধান বলছে, কেবল এই তিনটি মামলাই নয়—আমীরুল ইসলাম ও আরিফ পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় জাল-জালিয়াতি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে আছে।

​স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে তারা এলাকায় অপরাধের রাজত্ব গড়ে তোলেন। বর্তমানেও তারা মানুষের জমি ভূয়া দলিল করে হয়রানি করছে।

​তবে গুরুতর এসব মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত দুই আওয়ামী লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকাতেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে যে দাবি করছে, তাতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জুলাই যোদ্ধারা। 
অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
​এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আরিফ ও তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বন্দর থানা অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারসহ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় একাধিক ফৌজদারি অপরাধ ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলাম ও তার ছেলে বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আরিফ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকির একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
​সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আরিফের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর বন্দর থানায় প্রথম দফায় একটি মামলা দায়ের হয় (এফআইআর নং-৫৪/১৭৮)। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় তার বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ, মারধর, সরাসরি হত্যাচেষ্টা এবং চুরির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
​এর আগে ২০১০ সালের ১০ মার্চ বন্দর থানাতেই তার বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা (এফআইআর নং-১৩) রুজু হয়েছিল। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারার ওই মামলায় বেআইনি জনতা গঠন করে পথরোধ, অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম ও অঙ্গহানির মতো নৃশংস অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে।

​কেবল স্থানীয় অপরাধ কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয় এই পরিবার। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় (এফআইআর নং-৪৩, জিআর নং-১০২৩) আরিফকে আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১১৪, ১৪৭, ১৪৮, ১০৯, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
​অনুসন্ধান বলছে, কেবল এই তিনটি মামলাই নয়—আমীরুল ইসলাম ও আরিফ পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় জাল-জালিয়াতি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে আছে।

​স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে তারা এলাকায় অপরাধের রাজত্ব গড়ে তোলেন। বর্তমানেও তারা মানুষের জমি ভূয়া দলিল করে হয়রানি করছে।

​তবে গুরুতর এসব মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত দুই আওয়ামী লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকাতেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে যে দাবি করছে, তাতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জুলাই যোদ্ধারা। 
অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
​এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আরিফ ও তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বন্দর থানা অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারসহ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে
0:00 / 0:00
1x