সময় বেলা

ভাড়া চাওয়ায় গৃহকর্তার ছবি দিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট

বন্দরে ‘কথিত’ নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা



  বন্দরে ‘কথিত’ নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা
ভাড়া চাওয়ায় গৃহকর্তার ছবি দিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট বন্দরে ‘কথিত’ নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বকেয়া বাসা ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক কথিত নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বন্দর থানাধীন কদমরসূল কলেজ মাঠপাড়া এলাকার একটি আটতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কদমরসূল কলেজ মাঠপাড়া এলাকার ওই আটতলা ভবনে তানজিনা আক্তার লিপি নামে এক নারী গত চার বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

ভবনের কেয়ারটেকার নাবিদুর রহমান নোবেলের দাবি, ওই নারীর কাছে চার মাসের মোট ৪০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পাওনা রয়েছে। বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে তিনি বাড়িওয়ালা ও কেয়ারটেকারকে গালিগালাজ, নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ‘জেল খাটানোর’ হুমকি দেন। এ বিষয়ে কেয়ারটেকার নোবেল আগেই বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে তানজিনা আক্তার লিপি তার ফেসবুক আইডি থেকে ভবন মালিকের ছবি ব্যবহার করে একটি কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করেন।

রোববার বিকেলে পোস্টটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় নারী-পুরুষ একজোট হয়ে ওই ভবনের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে কয়েকজন ক্ষুব্ধ নারী তানজিনা আক্তার লিপিকে ঘর থেকে বের করে আনেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে কয়েকশত নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লিপি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষকে হুমকি-ধামকি ও জিম্মি করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন  জানান, “খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সম্মানহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা-পয়সা আদায় করেন। এছাড়া স্থানীয় জনতা ও কয়েকজন দোকানদারের কাছ থেকেও তার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।” তবে ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বন্দরে ‘কথিত’ নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বকেয়া বাসা ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক কথিত নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বন্দর থানাধীন কদমরসূল কলেজ মাঠপাড়া এলাকার একটি আটতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কদমরসূল কলেজ মাঠপাড়া এলাকার ওই আটতলা ভবনে তানজিনা আক্তার লিপি নামে এক নারী গত চার বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

ভবনের কেয়ারটেকার নাবিদুর রহমান নোবেলের দাবি, ওই নারীর কাছে চার মাসের মোট ৪০ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পাওনা রয়েছে। বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে তিনি বাড়িওয়ালা ও কেয়ারটেকারকে গালিগালাজ, নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ‘জেল খাটানোর’ হুমকি দেন। এ বিষয়ে কেয়ারটেকার নোবেল আগেই বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে তানজিনা আক্তার লিপি তার ফেসবুক আইডি থেকে ভবন মালিকের ছবি ব্যবহার করে একটি কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করেন।

রোববার বিকেলে পোস্টটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় নারী-পুরুষ একজোট হয়ে ওই ভবনের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে কয়েকজন ক্ষুব্ধ নারী তানজিনা আক্তার লিপিকে ঘর থেকে বের করে আনেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে কয়েকশত নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লিপি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষকে হুমকি-ধামকি ও জিম্মি করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপস্থিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন  জানান, “খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সম্মানহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা-পয়সা আদায় করেন। এছাড়া স্থানীয় জনতা ও কয়েকজন দোকানদারের কাছ থেকেও তার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।” তবে ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বন্দরে ‘কথিত’ নারী সাংবাদিককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা
0:00 / 0:00
1x