সময় বেলা

সীমান্তের শূন্যরেখায় আট দিন ধরে মানবেতর জীবন: অনিশ্চয়তায় পাঁচ যুবক



সীমান্তের শূন্যরেখায় আট দিন ধরে মানবেতর জীবন: অনিশ্চয়তায় পাঁচ যুবক
মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত সমাধানের দাবি

মোঃ শাহজাহান বাশার 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা আট দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার পাঁচ যুবক। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দুই দেশের মাঝখানে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। মানবিক এই সংকট ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকালে বিএসএফ পাঁচ যুবককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

বর্তমানে একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বিজিবির অবস্থানের কারণে তারা কার্যত দুই দেশের মাঝখানে আটকা পড়েছেন। ফলে তারা না পারছেন ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে, না পারছেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে। সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ আট দিন ধরে ওই পাঁচ যুবক সীমান্তে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় মানুষকে আটকে রাখার ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তাই দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ঘটনাটির শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সীমান্তে আটকে পড়া পাঁচ যুবকের এই অনিশ্চিত জীবন শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং একটি মানবিক সংকট হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা এই পাঁচ যুবক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


সীমান্তের শূন্যরেখায় আট দিন ধরে মানবেতর জীবন: অনিশ্চয়তায় পাঁচ যুবক

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

মোঃ শাহজাহান বাশার 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা আট দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার পাঁচ যুবক। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দুই দেশের মাঝখানে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। মানবিক এই সংকট ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকালে বিএসএফ পাঁচ যুবককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

বর্তমানে একদিকে বিএসএফ এবং অন্যদিকে বিজিবির অবস্থানের কারণে তারা কার্যত দুই দেশের মাঝখানে আটকা পড়েছেন। ফলে তারা না পারছেন ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে, না পারছেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে। সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ আট দিন ধরে ওই পাঁচ যুবক সীমান্তে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দ্রুত এ সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় মানুষকে আটকে রাখার ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তাই দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ঘটনাটির শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সীমান্তে আটকে পড়া পাঁচ যুবকের এই অনিশ্চিত জীবন শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং একটি মানবিক সংকট হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে এবং দীর্ঘদিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা এই পাঁচ যুবক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
সীমান্তের শূন্যরেখায় আট দিন ধরে মানবেতর জীবন: অনিশ্চয়তায় পাঁচ যুবক
0:00 / 0:00
1x