মোঃ শাহজাহান বাশার
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের সঙ্গে রাজধানীর আধুনিক রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বহুল আলোচিত ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প অর্থায়নের সংকটে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) ও বিস্তারিত নকশা (Detailed Design) প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী কিংবা বড় বিনিয়োগকারীর অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হাজারো পরিবার গত প্রায় আট বছর ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জমিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘লাল নম্বর’ থাকায় তারা জমি বিক্রি, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো বাড়িঘর সংস্কার করতে পারছেন না। অথচ এখনো ক্ষতিপূরণের কোনো অর্থও পাননি তারা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ ফরিদপুরের ভাঙা থেকে শুরু হয়ে বরিশালের গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল বিমানবন্দর, কাশীপুর, সাগরদী ও টিয়াখালী এলাকা অতিক্রম করবে। এরপর কীর্তনখোলা নদীর ওপর একটি আধুনিক রেলসেতু নির্মাণ করে দপদপিয়া, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী হয়ে দেশের জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় গিয়ে শেষ হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে পায়রা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি।
প্রকল্পের সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণ তালিকায় থাকা বরিশাল মহানগরীর টিয়াখালী ও দক্ষিণ সাগরদী এলাকার হাজারো মানুষ বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তির শিকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় আট বছর আগে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বাড়ি ও জমিতে লাল রঙ দিয়ে নম্বর লিখে যান। এরপর মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিক্রয় করা যাবে না।
টিয়াখালী এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সুলতান খান বলেন,
“জীবনের শেষ সময়ে সন্তানদের কাছে ঢাকায় গিয়ে থাকতে চাই। কিন্তু বসতভিটাসহ জমি বিক্রি করতে পারছি না। কেউ কিনতেও চায় না, কারণ সবাই জানে এই জমি রেল প্রকল্পের আওতায় পড়েছে।”
একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন,
“বর্ষা এলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। কিন্তু স্থায়ীভাবে মেরামত করতে পারছি না। বছরের পর বছর কষ্ট করে বসবাস করছি।”
দক্ষিণ সাগরদী এলাকার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান,
“মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে পৈতৃক জমির একটি অংশ বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লাল নম্বর থাকায় কোনো ক্রেতা আগ্রহ দেখায়নি। শেষ পর্যন্ত ঋণ নিয়ে বিয়ের খরচ চালাতে হয়েছে।”
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৫ হাজার ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো রেলপথে ১৯টি রেলস্টেশন এবং একটি জংশন স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন শুরু না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়ক্ষেপণের কারণে চূড়ান্ত ব্যয় প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
সরকারি বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন,
“যেকোনো মেগা প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
দীর্ঘসূত্রিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরিশালের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন,
“পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বছরের পর বছর মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। যদি দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অথবা জমির ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালে শুরু করে ২০২৯ সালে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন,
“প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি মেগা প্রকল্প। বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে বাস্তবায়ন পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উন্নয়ন সহযোগী বা বড় ধরনের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, তবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও শিল্পখাত ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। আর যদি শিগগির বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে জমির ওপর জারি থাকা অনিশ্চয়তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি। তবে অর্থায়নের সংকট দ্রুত কাটিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে একদিকে যেমন উন্নয়নের স্বপ্ন দীর্ঘদিন অপূর্ণ থেকে যাবে, অন্যদিকে জমি অধিগ্রহণের অনিশ্চয়তায় আটকে থাকা হাজারো পরিবারের দুর্ভোগও আরও দীর্ঘায়িত হবে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
মোঃ শাহজাহান বাশার
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের সঙ্গে রাজধানীর আধুনিক রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বহুল আলোচিত ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প অর্থায়নের সংকটে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) ও বিস্তারিত নকশা (Detailed Design) প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী কিংবা বড় বিনিয়োগকারীর অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হাজারো পরিবার গত প্রায় আট বছর ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জমিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘লাল নম্বর’ থাকায় তারা জমি বিক্রি, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো বাড়িঘর সংস্কার করতে পারছেন না। অথচ এখনো ক্ষতিপূরণের কোনো অর্থও পাননি তারা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ ফরিদপুরের ভাঙা থেকে শুরু হয়ে বরিশালের গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল বিমানবন্দর, কাশীপুর, সাগরদী ও টিয়াখালী এলাকা অতিক্রম করবে। এরপর কীর্তনখোলা নদীর ওপর একটি আধুনিক রেলসেতু নির্মাণ করে দপদপিয়া, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী হয়ে দেশের জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় গিয়ে শেষ হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে পায়রা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতুর পর দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি।
প্রকল্পের সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণ তালিকায় থাকা বরিশাল মহানগরীর টিয়াখালী ও দক্ষিণ সাগরদী এলাকার হাজারো মানুষ বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তির শিকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় আট বছর আগে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বাড়ি ও জমিতে লাল রঙ দিয়ে নম্বর লিখে যান। এরপর মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিক্রয় করা যাবে না।
টিয়াখালী এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সুলতান খান বলেন,
“জীবনের শেষ সময়ে সন্তানদের কাছে ঢাকায় গিয়ে থাকতে চাই। কিন্তু বসতভিটাসহ জমি বিক্রি করতে পারছি না। কেউ কিনতেও চায় না, কারণ সবাই জানে এই জমি রেল প্রকল্পের আওতায় পড়েছে।”
একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন,
“বর্ষা এলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। কিন্তু স্থায়ীভাবে মেরামত করতে পারছি না। বছরের পর বছর কষ্ট করে বসবাস করছি।”
দক্ষিণ সাগরদী এলাকার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান,
“মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে পৈতৃক জমির একটি অংশ বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লাল নম্বর থাকায় কোনো ক্রেতা আগ্রহ দেখায়নি। শেষ পর্যন্ত ঋণ নিয়ে বিয়ের খরচ চালাতে হয়েছে।”
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৫ হাজার ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো রেলপথে ১৯টি রেলস্টেশন এবং একটি জংশন স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন শুরু না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়ক্ষেপণের কারণে চূড়ান্ত ব্যয় প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
সরকারি বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন,
“যেকোনো মেগা প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
দীর্ঘসূত্রিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরিশালের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন,
“পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বছরের পর বছর মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। যদি দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অথবা জমির ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালে শুরু করে ২০২৯ সালে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন,
“প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি মেগা প্রকল্প। বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে বাস্তবায়ন পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উন্নয়ন সহযোগী বা বড় ধরনের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, তবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও শিল্পখাত ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। আর যদি শিগগির বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে জমির ওপর জারি থাকা অনিশ্চয়তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি। তবে অর্থায়নের সংকট দ্রুত কাটিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে একদিকে যেমন উন্নয়নের স্বপ্ন দীর্ঘদিন অপূর্ণ থেকে যাবে, অন্যদিকে জমি অধিগ্রহণের অনিশ্চয়তায় আটকে থাকা হাজারো পরিবারের দুর্ভোগও আরও দীর্ঘায়িত হবে।

আপনার মতামত লিখুন