মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা এবং মরিয়ম ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে জানিয়েছেন। মামলার বাদীর দাবি, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশ ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে তিনি ফ্ল্যাটে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাঁর হাতে লেখা একটি চিঠি বা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মামলার আসামিরা আদালতে নিজেদের বক্তব্য ও আইনি অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
এর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি মরিয়মকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২১ জুলাই গাজী নজরুলকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন মরিয়ম খাতুনের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে জামিননামাও আদালতে দাখিল করা হয়।
এখন একই ওবায়দুর রহমানকে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাঁকে গাজী নজরুল ও মরিয়মের বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা। পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগে-পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে।
রিমান্ড আবেদনের শুনানির পর আদালত আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত, উদ্ধার হওয়া চিঠি বা অন্যান্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার রিমান্ডের আবেদন করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছেন, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা এবং মরিয়ম ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে জানিয়েছেন। মামলার বাদীর দাবি, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশ ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে তিনি ফ্ল্যাটে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাঁর হাতে লেখা একটি চিঠি বা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মামলার আসামিরা আদালতে নিজেদের বক্তব্য ও আইনি অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
এর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি মরিয়মকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২১ জুলাই গাজী নজরুলকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটির বাদী ছিলেন মরিয়ম খাতুনের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে জামিননামাও আদালতে দাখিল করা হয়।
এখন একই ওবায়দুর রহমানকে মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাঁকে গাজী নজরুল ও মরিয়মের বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা। পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগে-পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে।
রিমান্ড আবেদনের শুনানির পর আদালত আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত, উদ্ধার হওয়া চিঠি বা অন্যান্য আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন