জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ১৪৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা দুটি হলো—নাদিম হত্যাচেষ্টা ও রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) পৃথকভাবে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শিগগিরই আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় এ মামলায় ১০৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসানসহ আরও কয়েকজন।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।
এ ছাড়া পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকেও আসামি করা হয়েছে।
অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি করা এবং সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ১৪৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা দুটি হলো—নাদিম হত্যাচেষ্টা ও রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) পৃথকভাবে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শিগগিরই আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় এ মামলায় ১০৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসানসহ আরও কয়েকজন।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।
এ ছাড়া পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকেও আসামি করা হয়েছে।
অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি করা এবং সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন