সময় বেলা

ইমার্জেন্সি গেটেই অচলাবস্থা: অটোরিকশা ও হকারদের দখলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা



ইমার্জেন্সি গেটেই অচলাবস্থা: অটোরিকশা ও হকারদের দখলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা
ইমার্জেন্সি গেটেই অচলাবস্থা: অটোরিকশা ও হকারদের দখলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

 মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক এখন কার্যত অটোরিকশা ও হকারদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথটি অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ায় প্রতিদিন গুরুতর রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে ৩০ থেকে ৪০টি অটোরিকশা সারিবদ্ধভাবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। একই সঙ্গে গেটের দুই পাশ, মূল প্রবেশপথ এবং সংলগ্ন ফুটপাথজুড়ে গড়ে উঠেছে হকারদের অস্থায়ী বাজার। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথটি সংকুচিত হয়ে কার্যত চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে পৌঁছালেও গেটের সামনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে। অটোরিকশা সরানো নিয়ে চালকদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একাধিকবার হাতাহাতি ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা হাসপাতালের জরুরি গেট, এখানে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। অথচ গেটের মুখেই যদি এমন বিশৃঙ্খলা থাকে, তাহলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একই চিত্র দেখা যায়। ইমার্জেন্সি গেট এলাকাটি ধীরে ধীরে একটি অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু গেট নয়, আশপাশের ফুটপাথও দখল হয়ে গেছে।

ফলে রোগী, পথচারী ও হাসপাতালে আগত সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের দ্রুত ভেতরে নেওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে চরম সংকট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সময় সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযান শেষ হলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পুরো এলাকা।

সচেতন মহল মনে করছে, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ কোনোভাবেই অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। এটি সরাসরি জীবনরক্ষাকারী সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্পর্শকাতর স্থান।

ইমার্জেন্সি গেট এলাকা থেকে অটোরিকশা স্ট্যান্ড সম্পূর্ণ অপসারণফুটপাথ ও প্রবেশপথ হকারমুক্ত করা নিয়মিত মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট কোনোভাবেই অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্র হতে পারে না—এটি হওয়া উচিত নিরবচ্ছিন্ন জীবনরক্ষার নিরাপদ প্রবেশপথ।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


ইমার্জেন্সি গেটেই অচলাবস্থা: অটোরিকশা ও হকারদের দখলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

 মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক এখন কার্যত অটোরিকশা ও হকারদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথটি অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ায় প্রতিদিন গুরুতর রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে ৩০ থেকে ৪০টি অটোরিকশা সারিবদ্ধভাবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। একই সঙ্গে গেটের দুই পাশ, মূল প্রবেশপথ এবং সংলগ্ন ফুটপাথজুড়ে গড়ে উঠেছে হকারদের অস্থায়ী বাজার। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথটি সংকুচিত হয়ে কার্যত চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে পৌঁছালেও গেটের সামনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে। অটোরিকশা সরানো নিয়ে চালকদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একাধিকবার হাতাহাতি ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা হাসপাতালের জরুরি গেট, এখানে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। অথচ গেটের মুখেই যদি এমন বিশৃঙ্খলা থাকে, তাহলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একই চিত্র দেখা যায়। ইমার্জেন্সি গেট এলাকাটি ধীরে ধীরে একটি অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু গেট নয়, আশপাশের ফুটপাথও দখল হয়ে গেছে।

ফলে রোগী, পথচারী ও হাসপাতালে আগত সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের দ্রুত ভেতরে নেওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে চরম সংকট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সময় সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযান শেষ হলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পুরো এলাকা।

সচেতন মহল মনে করছে, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ কোনোভাবেই অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। এটি সরাসরি জীবনরক্ষাকারী সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্পর্শকাতর স্থান।

ইমার্জেন্সি গেট এলাকা থেকে অটোরিকশা স্ট্যান্ড সম্পূর্ণ অপসারণফুটপাথ ও প্রবেশপথ হকারমুক্ত করা নিয়মিত মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট কোনোভাবেই অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্র হতে পারে না—এটি হওয়া উচিত নিরবচ্ছিন্ন জীবনরক্ষার নিরাপদ প্রবেশপথ।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ইমার্জেন্সি গেটেই অচলাবস্থা: অটোরিকশা ও হকারদের দখলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা
0:00 / 0:00
1x