সময় বেলা

পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি সংকট ও বৈষম্যের বাড়ছে অসন্তোষ, জোরালো হচ্ছে সংস্কারের দাবি



পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি সংকট ও বৈষম্যের বাড়ছে অসন্তোষ, জোরালো হচ্ছে সংস্কারের দাবি
পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি সংকট ও বৈষম্যের বাড়ছে অসন্তোষ,

মো. শাহজাহান বাশার

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলস দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অপরাধ তদন্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাহিনীটি। তবে দায়িত্ব পালনের এই কঠিন বাস্তবতার বিপরীতে পুলিশ বাহিনীর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পদোন্নতি জটিলতা এবং মূল্যায়নের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন অদৃশ্য প্রভাবের কারণে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেউ কেউ নিজের ব্যাচের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেককে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে অথবা কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। এতে করে তাদের পেশাগত অগ্রগতি যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি মানসিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এতে অনেকের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও সদস্য পদোন্নতি বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা নতুন করে সামনে আসছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশের ঘটনাও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি তুলনামূলকভাবে নিয়মিত হলেও নন-ক্যাডার পর্যায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার সাব-ইন্সপেক্টর দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে ইন্সপেক্টরশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও বহু কর্মকর্তা বছরের পর বছর পদোন্নতির আশায় অপেক্ষা করছেন। চাকরিজীবনের ১৫ থেকে ২০ বছর পার হয়ে গেলেও অনেক সদস্য কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে কেউ কেউ যে পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, সেই পদেই অবসরে যাচ্ছেন।

বিশেষ করে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সার্জেন্টদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ বেশি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়া, প্রশাসনিক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পদোন্নতির সীমিত সুযোগের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি চাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অতীতে অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও বিভিন্ন কারণে তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব এখনো তাদের ক্যারিয়ারে পড়ছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়ায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে আলোচিত কয়েকজন কর্মকর্তার উদাহরণও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খান, ডিআইজি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের সমর্থকদের দাবি, এসব কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হলে পুলিশ প্রশাসন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হতে পারত।

সম্প্রতি সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি আলী আকবর খানের স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আবেদনে তিনি কর্মজীবনে একাধিকবার বঞ্চনার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশ সদস্যদের একটি অংশের মতে, বাহিনীর অভ্যন্তরে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত না হলে মনোবল ও পেশাগত দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা মনে করেন, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা গেলে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু নাঈম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি পুলিশ উইংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও বাস্তবতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বাহিনীর অভ্যন্তরে বিদ্যমান পদোন্নতি জটিলতা, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অন্যথায় দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ভবিষ্যতে বাহিনীর কার্যকারিতা ও জনসেবার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি সংকট ও বৈষম্যের বাড়ছে অসন্তোষ, জোরালো হচ্ছে সংস্কারের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

মো. শাহজাহান বাশার

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলস দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অপরাধ তদন্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাহিনীটি। তবে দায়িত্ব পালনের এই কঠিন বাস্তবতার বিপরীতে পুলিশ বাহিনীর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পদোন্নতি জটিলতা এবং মূল্যায়নের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন অদৃশ্য প্রভাবের কারণে অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেউ কেউ নিজের ব্যাচের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেককে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে অথবা কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। এতে করে তাদের পেশাগত অগ্রগতি যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি মানসিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এতে অনেকের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও সদস্য পদোন্নতি বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও হতাশা নতুন করে সামনে আসছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশের ঘটনাও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি তুলনামূলকভাবে নিয়মিত হলেও নন-ক্যাডার পর্যায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার সাব-ইন্সপেক্টর দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে ইন্সপেক্টরশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও বহু কর্মকর্তা বছরের পর বছর পদোন্নতির আশায় অপেক্ষা করছেন। চাকরিজীবনের ১৫ থেকে ২০ বছর পার হয়ে গেলেও অনেক সদস্য কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে কেউ কেউ যে পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, সেই পদেই অবসরে যাচ্ছেন।

বিশেষ করে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সার্জেন্টদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ বেশি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পদ সৃষ্টি না হওয়া, প্রশাসনিক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পদোন্নতির সীমিত সুযোগের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি চাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অতীতে অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও বিভিন্ন কারণে তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব এখনো তাদের ক্যারিয়ারে পড়ছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়ায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে আলোচিত কয়েকজন কর্মকর্তার উদাহরণও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খান, ডিআইজি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের সমর্থকদের দাবি, এসব কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হলে পুলিশ প্রশাসন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হতে পারত।

সম্প্রতি সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও ডিআইজি আলী আকবর খানের স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আবেদনে তিনি কর্মজীবনে একাধিকবার বঞ্চনার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশ সদস্যদের একটি অংশের মতে, বাহিনীর অভ্যন্তরে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত না হলে মনোবল ও পেশাগত দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা মনে করেন, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা গেলে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু নাঈম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি পুলিশ উইংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও বাস্তবতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বাহিনীর অভ্যন্তরে বিদ্যমান পদোন্নতি জটিলতা, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অন্যথায় দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ভবিষ্যতে বাহিনীর কার্যকারিতা ও জনসেবার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
পুলিশ বাহিনীতে পদোন্নতি সংকট ও বৈষম্যের বাড়ছে অসন্তোষ, জোরালো হচ্ছে সংস্কারের দাবি
0:00 / 0:00
1x