সময় বেলা

মাদক,একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ- শাহজাহান বাশার



মাদক,একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ- শাহজাহান বাশার
মাদক,একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ

শাহজাহান বাশার

মাদক শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় সংকট। একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত হানে মাদকাসক্তি। যে জাতির তরুণ সমাজ মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হয়, সে জাতি কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারে না। তাই মাদককে যথার্থই বলা হয় একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ নানা মেগা প্রকল্প দেশের অগ্রগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার মাঝেও একটি অন্ধকার ছায়া আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে, আর সেটি হলো মাদক। শহর থেকে গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র, এমনকি পরিবার পর্যন্ত মাদকের বিষাক্ত থাবা বিস্তার করেছে।

বর্তমান সময়ে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, আইস, এলএসডি ও বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে মাদকের বিস্তার সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বন্ধুর প্ররোচনা, কৌতূহল, হতাশা, বেকারত্ব, পারিবারিক অবহেলা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রথমে কৌতূহল, পরে অভ্যাস, আর শেষ পর্যন্ত আসক্তি—এই চক্রে আটকে গিয়ে তারা নিজেদের জীবন ধ্বংস করছে।

মাদকাসক্ত একজন মানুষ শুধু নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; তার পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রও এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তার মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয়। অর্থের জন্য সে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণা এমনকি খুনের মতো জঘন্য অপরাধেও জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

মাদকাসক্তির কারণে অসংখ্য পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। একজন আসক্ত সন্তানের কারণে বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক পরিবার তাদের সঞ্চিত সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সংসারে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং বিচ্ছেদের ঘটনাও বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাজের বোঝায় পরিণত হয়।

স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও মাদকের ক্ষতি অপরিসীম। মাদক মানুষের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে মাদকাসক্তি মানসিক রোগ, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং নানা জটিল রোগের জন্ম দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুও ঘটে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার চিকিৎসা কঠিন এবং ব্যয়বহুল।

মাদকের বিস্তারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র। সীমান্তপথে চোরাচালান, আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট, অসাধু ব্যবসায়ী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি মাদক ব্যবসাকে লাভজনক খাতে পরিণত করেছে। কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ ব্যবসা সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদক ব্যবসায়ীরা তরুণদের টার্গেট করে তাদের জীবনকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও শুধু অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার। পরিবার হলো একজন শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তানকে সময় দিতে হবে, তার মানসিক অবস্থার খোঁজ নিতে হবে এবং ভালো-মন্দ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মাদকবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

ধর্মীয় মূল্যবোধও মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামসহ সকল ধর্মই মাদককে মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে। তাই পরিবার ও সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানো জরুরি।

গণমাধ্যমেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়াকে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। সচেতনতামূলক প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গণমাধ্যম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

আজ সময় এসেছে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার। শুধু সরকার নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়া শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার অঙ্গীকার।

আমরা যদি আজ মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ না করি, তাহলে আগামী প্রজন্ম একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে। আমাদের তরুণ সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের হাতে বই, কলম, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার আলো তুলে দিতে হবে; মাদকের বিষ নয়।

মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন। একটি সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মাদকের বিরুদ্ধে আজই ঐক্যবদ্ধ হোন। কারণ মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, ধ্বংস করে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত একটি জাতিকে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হোক আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার, আমাদের সামাজিক দায়িত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার এক অবিচল প্রত্যয়।

আপনার মতামত লিখুন

সময় বেলা

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


মাদক,একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ- শাহজাহান বাশার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

শাহজাহান বাশার

মাদক শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় সংকট। একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত হানে মাদকাসক্তি। যে জাতির তরুণ সমাজ মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হয়, সে জাতি কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারে না। তাই মাদককে যথার্থই বলা হয় একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ।

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ নানা মেগা প্রকল্প দেশের অগ্রগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার মাঝেও একটি অন্ধকার ছায়া আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে, আর সেটি হলো মাদক। শহর থেকে গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র, এমনকি পরিবার পর্যন্ত মাদকের বিষাক্ত থাবা বিস্তার করেছে।

বর্তমান সময়ে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, আইস, এলএসডি ও বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে মাদকের বিস্তার সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বন্ধুর প্ররোচনা, কৌতূহল, হতাশা, বেকারত্ব, পারিবারিক অবহেলা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রথমে কৌতূহল, পরে অভ্যাস, আর শেষ পর্যন্ত আসক্তি—এই চক্রে আটকে গিয়ে তারা নিজেদের জীবন ধ্বংস করছে।

মাদকাসক্ত একজন মানুষ শুধু নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; তার পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রও এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তার মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয়। অর্থের জন্য সে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণা এমনকি খুনের মতো জঘন্য অপরাধেও জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

মাদকাসক্তির কারণে অসংখ্য পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। একজন আসক্ত সন্তানের কারণে বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক পরিবার তাদের সঞ্চিত সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সংসারে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং বিচ্ছেদের ঘটনাও বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাজের বোঝায় পরিণত হয়।

স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও মাদকের ক্ষতি অপরিসীম। মাদক মানুষের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে মাদকাসক্তি মানসিক রোগ, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং নানা জটিল রোগের জন্ম দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুও ঘটে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার চিকিৎসা কঠিন এবং ব্যয়বহুল।

মাদকের বিস্তারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র। সীমান্তপথে চোরাচালান, আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট, অসাধু ব্যবসায়ী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি মাদক ব্যবসাকে লাভজনক খাতে পরিণত করেছে। কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ ব্যবসা সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদক ব্যবসায়ীরা তরুণদের টার্গেট করে তাদের জীবনকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও শুধু অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার। পরিবার হলো একজন শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তানকে সময় দিতে হবে, তার মানসিক অবস্থার খোঁজ নিতে হবে এবং ভালো-মন্দ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মাদকবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

ধর্মীয় মূল্যবোধও মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামসহ সকল ধর্মই মাদককে মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে। তাই পরিবার ও সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানো জরুরি।

গণমাধ্যমেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়াকে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। সচেতনতামূলক প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গণমাধ্যম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

আজ সময় এসেছে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার। শুধু সরকার নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়া শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার অঙ্গীকার।

আমরা যদি আজ মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ না করি, তাহলে আগামী প্রজন্ম একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে। আমাদের তরুণ সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের হাতে বই, কলম, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার আলো তুলে দিতে হবে; মাদকের বিষ নয়।

মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন। একটি সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মাদকের বিরুদ্ধে আজই ঐক্যবদ্ধ হোন। কারণ মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, ধ্বংস করে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত একটি জাতিকে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হোক আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার, আমাদের সামাজিক দায়িত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার এক অবিচল প্রত্যয়।


সময় বেলা

সম্পাদক
আবু সাউদ মাসুদ
বার্তা প্রকাশক
তিয়ান

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মাদক,একটি জাতির নীরব ধ্বংসযজ্ঞ- শাহজাহান বাশার
0:00 / 0:00
1x