সময় বেলা

আর্কাইভ দেখুন

মাইজভান্ডার যেখানে মন থেমে যায় হৃদয় কথা বলে সাংবাদিক  শাহজাহান বাশার

মাইজভান্ডার যেখানে মন থেমে যায় হৃদয় কথা বলে সাংবাদিক শাহজাহান বাশার

কিছু কিছু জায়গা শুধু মানচিত্রের একটি বিন্দু নয়; কিছু জায়গা মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে মিশে যায়। সেখানে মানুষ যায় শুধু দেখার জন্য নয়, যায় অনুভব করতে। যায় নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে একটু থামাতে, মনের ভার কিছুটা হালকা করতে, আত্মার প্রশান্তি খুঁজতে।চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার তেমনই একটি নাম—যে নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুফি সাধনা, আধ্যাত্মিকতা, মানবপ্রেম, ভক্তি, স্মৃতি ও দীর্ঘ ঐতিহ্য। বহু মানুষের কাছে মাইজভান্ডার দরবার শরিফ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়; এটি শান্তির একটি আশ্রয়, ভালোবাসার একটি ঠিকানা এবং আত্মিক প্রশান্তি খোঁজার একটি পরিচিত নাম।ব্যস্ত জীবনের কোলাহল, মানুষের জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট, হতাশা, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও কেউ যখন মাইজভান্ডারের পথে পা বাড়ান, তখন তার সঙ্গে থাকে এক ধরনের প্রত্যাশা—হয়তো এখানে এসে কিছুটা শান্তি পাওয়া যাবে। হয়তো কিছু সময়ের জন্য নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলা যাবে। হয়তো প্রার্থনার মধ্যে মনকে একটু স্থির করা যাবে।এই অনুভূতিই মাইজভান্ডারের সবচেয়ে বড় শক্তি।মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক ধারার সুসংগঠিত বিকাশ উনবিংশ শতাব্দীতে গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর মাধ্যমে। দরবারের নিজস্ব ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ১৮২৬ সালে মাইজভান্ডারে আগমন করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন।ক্রমে তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা, শিক্ষা ও মানবিক আদর্শকে কেন্দ্র করে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন তাঁর সান্নিধ্য লাভের আশায়। সেই ধারাবাহিকতায় মাইজভান্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—মাইজভান্ডারী তরিকার দৃশ্যমান ও প্রামাণ্য ইতিহাস মূলত উনবিংশ শতাব্দী থেকে সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। তাই মাইজভান্ডারকে ‘৪৫০ বছরের পুরোনো দরবার’ বলার পরিবর্তে উপমহাদেশের দীর্ঘ সুফি-আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার সঙ্গে মাইজভান্ডারের সম্পর্ককে তুলে ধরা অধিকতর ঐতিহাসিকভাবে সতর্ক ও গ্রহণযোগ্য।কারণ কোনো একটি দরবারের বয়সের চেয়েও বড় হলো তার দর্শন, মানুষের ওপর তার প্রভাব এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা তার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য।সুফিবাদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো—আত্মশুদ্ধির সঙ্গে মানবপ্রেমের সম্পর্ক।নিজেকে পরিশুদ্ধ করা, অহংকার থেকে দূরে থাকা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা, অন্যের কষ্টকে অনুভব করা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জীবনকে অর্থবহ করার শিক্ষা সুফি দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।মাইজভান্ডারী ঐতিহ্যেও মানবকল্যাণ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।এখানে একজন মানুষ তার পরিচয়, অর্থনৈতিক অবস্থান কিংবা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে আসেন না; তিনি আসেন একজন মানুষ হিসেবে। কেউ আসে দোয়া করতে, কেউ আসে মানসিক প্রশান্তির আশায়, কেউ আসে আধ্যাত্মিক সাধনার টানে। আবার কেউ হয়তো শুধু মাইজভান্ডারের পরিবেশটুকু অনুভব করতে আসেন।এই বহুমাত্রিক মানুষের সমাগমই মাইজভান্ডারকে একটি আলাদা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবহ দিয়েছে।এই প্রশ্নের উত্তর সবার কাছে এক নয়।কারও কাছে এটি পবিত্র স্থান। কারও কাছে আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র। কারও কাছে পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য। কারও কাছে ভালোবাসা ও ভক্তির জায়গা। আবার কারও কাছে এটি এমন একটি স্থান, যেখানে কিছু সময় নীরবে বসে নিজের জীবনকে ফিরে দেখা যায়।মানুষের জীবন সবসময় সহজ নয়। প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই থাকে না বলা কিছু কথা, কিছু দুঃখ, কিছু ব্যর্থতা, কিছু প্রত্যাশা এবং কিছু প্রার্থনা।সেই অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলো নিয়েই মানুষ কখনো কখনো দরবারের পথে হাঁটে।হয়তো সে কোনো অলৌকিক সমাধান খুঁজছে না। সে শুধু একটু শান্তি চায়।আর সেই শান্তির অনুভূতিই মাইজভান্ডারের সঙ্গে বহু মানুষের আবেগকে যুক্ত করেছে।মাইজভান্ডারের আধ্যাত্মিক পরিবেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জিকির, দোয়া, মিলাদ, ওরশ ও ধর্মীয়-আধ্যাত্মিক নানা আয়োজনকে ঘিরে মানুষের সমাগম।বিশেষ দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও অনুসারীরা এখানে সমবেত হন। তখন মাইজভান্ডার পরিণত হয় মানুষের এক বিশাল মিলনস্থলে।কেউ সাদা পোশাকে, কেউ সাধারণ পোশাকে—বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষ এক জায়গায় এসে মিলিত হন। তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য হয়তো আলাদা, কিন্তু অনুভূতির জায়গায় একটি মিল রয়েছে—শান্তির আকাঙ্ক্ষা।এমন দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের বাহ্যিক পরিচয় যতই আলাদা হোক, অন্তরের শান্তির প্রয়োজন সবারই আছে।সময়ের সঙ্গে মাইজভান্ডারকে ঘিরে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগকালে সহযোগিতা, মেধাবৃত্তি, সামাজিক সচেতনতা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে মাইজভান্ডারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততার কথাও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়।এখানেই আধ্যাত্মিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে—আধ্যাত্মিকতা যদি মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে তার সামাজিক তাৎপর্য সীমিত হয়ে যায়।একজন মানুষ যদি দরবারে গিয়ে ফিরে এসে অন্য মানুষের প্রতি আরও সহনশীল হন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করেন, অহংকার কমিয়ে মানবিক হন—তবেই আধ্যাত্মিক শিক্ষার বাস্তব অর্থ প্রকাশ পায়।বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গেও মাইজভান্ডারের নাম উচ্চারিত হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধের সময় মাইজভান্ডারকে ঘিরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল মাইজভান্ডারে অনুষ্ঠিত ওরশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শনের ঘটনাও বিভিন্ন লেখায় ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইতিহাসের এমন ঘটনা মাইজভান্ডারের আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি তার সামাজিক ও জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গেও একটি যোগসূত্র তৈরি করে।আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন প্রযুক্তি মানুষের দূরত্ব কমিয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মনের দূরত্ব বাড়িয়েছে।মানুষের হাতে যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম, কিন্তু অনেক মানুষই ভেতরে ভেতরে একাকী। চারপাশে মানুষের ভিড়, অথচ মনের কথা বলার মানুষ কমে যাচ্ছে।অর্থ, প্রতিযোগিতা, সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক বিভাজন, পারস্পরিক অবিশ্বাস—সবকিছুর ভিড়ে মানুষ কখনো কখনো ভুলে যায়, জীবনের শেষ সত্যটি হলো মানবতা।এই জায়গাতেই সুফি দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে সামনে আসে।মানুষকে ভালোবাসা, অন্যের প্রতি সহনশীল হওয়া, অহংকার কমানো, নিজের ভুল স্বীকার করা, সৃষ্টিকর্তার প্রতি আত্মসমর্পণ এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা—এই মূল্যবোধগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়; সব সময়ের জন্য প্রয়োজনীয়।মাইজভান্ডারকে শুধু স্থাপনা দিয়ে বোঝা যায় না।এর ইতিহাস বইয়ের পাতায় আছে, কিন্তু এর অনুভূতি মানুষের হৃদয়ে।এর আধ্যাত্মিকতা বক্তব্যে আছে, আবার নীরবতার মধ্যেও আছে।এর ঐতিহ্য অতীতের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু এর আবেদন বর্তমানেও রয়েছে।একজন মানুষ যখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মাইজভান্ডারে পৌঁছান, তখন তার সঙ্গে থাকে নিজের জীবনের অসংখ্য গল্প। সেই গল্পের কিছু সুখের, কিছু দুঃখের, কিছু ব্যর্থতার, কিছু আশার।দরবারের আঙিনায় দাঁড়িয়ে হয়তো সে কিছুক্ষণ নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকায়।হয়তো মনে মনে বলে—জীবনটা আরও সুন্দর হোক।মনটা আরও শান্ত হোক।মানুষের প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়ুক।এই প্রার্থনাই হয়তো মাইজভান্ডারের সবচেয়ে সুন্দর দিক।বর্তমান সময়ে যখন ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি হয়, তখন সুফি ঐতিহ্যের মানবিক শিক্ষা নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন।ধর্ম মানুষকে যদি ভালো মানুষ হতে শেখায়, তবে সেটিই তার সৌন্দর্য। আধ্যাত্মিকতা যদি মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করে, তবে সেটিই তার সার্থকতা।মাইজভান্ডারের দীর্ঘ ঐতিহ্য থেকে তাই যে শিক্ষা সবচেয়ে বেশি সামনে আসে, তা হলো—মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের পাশে থাকা এবং নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা।কারণ পৃথিবীতে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাজার, দরবার—সবই মানুষের আত্মিক শান্তির অনুসন্ধানের বিভিন্ন প্রকাশ। কিন্তু সব পথের শেষ কথা যদি মানবতা হয়, তবে সেই মানবতাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।মাইজভান্ডার হয়তো কারও কাছে একটি দরবার, কারও কাছে একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, কারও কাছে একটি ঐতিহাসিক স্থান। কিন্তু অসংখ্য মানুষের কাছে এটি তার চেয়েও বেশি কিছু।এটি স্মৃতির জায়গা।এটি ভক্তির জায়গা।এটি আত্মশুদ্ধির জায়গা।এটি ভালোবাসার জায়গা।সবচেয়ে বড় কথা—এটি শান্তি খোঁজার একটি জায়গা।সময় বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে, মানুষের জীবনযাত্রা বদলাবে। কিন্তু মানুষের অন্তরের শান্তির প্রয়োজন কখনো শেষ হবে না।আর যতদিন মানুষ অশান্ত পৃথিবীর ভেতর একটু প্রশান্তি খুঁজবে, যতদিন মানুষ ভালোবাসার কাছে ফিরতে চাইবে, ততদিন মাইজভান্ডারের মতো আধ্যাত্মিক স্থানগুলোর আবেদনও থেকে যাবে।মাইজভান্ডার তাই শুধু একটি নাম নয়—এটি অনেক মানুষের কাছে একটি অনুভূতি।যেখানে মানুষ যায় শান্তি খুঁজতে, আর ফিরে আসে হৃদয়ে একটু বেশি ভালোবাসা নিয়ে।


সাভারে ৫০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সাভারে ৫০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ আতিক (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর।ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ শাহাদাৎ হোসেন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ আতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তি একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী।এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশহাতে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটেয়ে মেরেছে তার সিনিয়র বন্ধুরা, যাদের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। চলাফেরা, ওঠাবসা ছিল।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।অপ্রতিম হত্যায় আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমকে কৌশলে হত্যা সংঘটিত হওয়ার স্থানে নেওয়া হয়। পরে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। পিটিয়ে ফেলে রাখা হয়। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। এই শিশুকে হত্যায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো কামরুল হাসান ও মো. সিয়াম (১৯)। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন। আর সিয়ামের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।এদের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। এই তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরিসহ নানান অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ সুপার বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা-৬টার দিকে ওই জঙ্গলে আইফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে অপ্রতিম তাদের বাধা দেয়। এতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়।তিনি আরও বলেন, ‘তুহিনই অপ্রিতমকে বাসা থেকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে নিয়ে যায়। তার কাছ থেকেই ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।’জেলার পুলিশপ্রধান বলেন, জিডির ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়। পরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ফাহাদ। পরে ফাহাদকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, কামরুলও জড়িত ছিল।মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এরপরই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার করা হয়।অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও।


অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা

অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।জানাজা শেষে অপ্রতিমের মরদেহ গন্ধমতিতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সকাল সোয়া ১১টার দিকে তাকে দাফন করা হয়।অপ্রতিমের জানাজা ও দাফনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতি ছিল। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।


২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫২৭, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫২৭, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্রসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। তেজগাঁও থেকে ৭৯, মতিঝিল থেকে ৬৩, ওয়ারী থেকে ৫৭, রমনা থেকে ৫২, উত্তরা থেকে ৪৫, লালবাগ থেকে ৪৩  এবং গুলশান বিভাগ থেকে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।অভিযানে বিস্ফোরক ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপকরণও উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার, ২৫০ গ্রাম পেট্রোল, ৫০০ গ্রাম ঝুট কাপড়, বিস্ফোরিত ককটেলের ৩৫ গ্রাম পেরেক, সাতটি টিনের টুকরা, ১০ টুকরা স্কচটেপ, ১০৪টি পেরেক এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলের টিনের অংশবিশেষ।অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৪ কেজি ২৪৫ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ১১৫ পিস ইয়াবা, ২১ গ্রাম হেরোইন ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব মাদকদ্রব্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়।অভিযান চলাকালে একটি প্রাইভেটকার, তিনটি চাকু, একটি চাপাতি, একটি ছোট কাচি ও একটি কাটারসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফয়েল পেপার, গ্যাস লাইট, একটি নাইলনের রশি এবং ১৪টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।ডিএমপির অভিযানে মাদক তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ২ হাজার ৬০০ গ্রাম বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, ৪৫৪ গ্রাম বেনেলিয়া পাউডার, ১৩ বোতল রং, ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত মিশ্রিত উপাদান ১ হাজার ৫০০ গ্রাম।এ ছাড়া অভিযানের সময় দুইজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অপরাধবিরোধী ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা আলামত ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।


ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, উসকানির দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৫০০ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। এদিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। ইতোমধ্যেই আপিলের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগেও ইনুর দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এসব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়। তবে এই দুই অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দেন।ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। এ অভিযোগে তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।পরই সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণসপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশনা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়।এদিকে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।


বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে সুমন-ফজলুর

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে সুমন-ফজলুর

বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. সুমন হাওলাদার। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হিসাবরক্ষক মো. ফজলুর রহমান।শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে।সারা দেশের অধস্তন জেলা আদালতগুলোর ৬০৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫১৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে ভোট পড়ার হার ছিল ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।সভাপতি পদে মো. সুমন হাওলাদার ৩১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রেজোয়ান খোন্দকার পেয়েছেন ২০৪ ভোট।সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফজলুর রহমান ৩১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি তারিক আহমেদ রিঙ্কু পেয়েছেন ১৯৩ ভোট।সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. শাহীন আলম ১৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে মো. কামাল হোসেন ১৩৩, মো. আসাদ-উদ-দৌলা (মাসুম) ৭২, মো. হাফিজুল ইসলাম ৪৭, মো. আবু ছায়েদ ২০ এবং আহসানুল কবির (স্বজন) ১৯ ভোট পেয়েছেন।ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে সংগঠনের সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণ, অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সারা দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভোটার ও সাধারণ কর্মচারীরা বেতন স্কেল যৌক্তিকীকরণ, বিশেষ ভাতা চালু এবং পদোন্নতির জটিলতা নিরসনসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। নতুন কমিটি এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।


রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া আর কোনো হামলা বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি তারা।এর আগে শনিবার সৌদি রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি ট্যাংক থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।হুথিরা সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর পর শনিবার প্রথমবারের মতো রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। গত জুলাই থেকে সৌদি আরবে হুথি হামলা বেড়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বেসামরিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এই সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ওই অঞ্চলে এবং অঞ্চলটির মধ্য দিয়ে ভ্রমণের বিষয়টি মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘শত্রুতামূলক হামলার চেষ্টা’ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে।হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।তিনি বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজধানী সানায় হামলার চেষ্টা চালানোর জবাবেই এসব হামলা করা হয়েছে।এর আগে আল-সারিয়া অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টি হামলা চালিয়েছে।ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুথিদের  দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করে।সাম্প্রতিক কয়েক মাসে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের আকাশে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।


পটুয়াখালীতে মহাসড়কে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৪

পটুয়াখালীতে মহাসড়কে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৪

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পটুয়াখালী শহর থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি দলুগাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা তালতলী থেকে ঢাকাগামী ইমরান পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের চাপায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অটোরিকশায় থাকা চার যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালান। তারা দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।দুর্ঘটনার পর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা সরিয়ে নেয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বিশ্বনেতাদের এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বনেতাদের এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় সরকারপ্রধান বিশ্বনেতাদের এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এ ছাড়াও ভিডিওবার্তায় এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।উল্লেখ্য, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


অপ্রতিম হত্যা: আটক কিশোরের বাসা থেকে সেই আইফোন উদ্ধার

অপ্রতিম হত্যা: আটক কিশোরের বাসা থেকে সেই আইফোন উদ্ধার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পুলিশ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া কিশোরের বাড়ি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আইফোনটি উদ্ধার করেছেন। অপ্রতিম তার মায়ের এই আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে অপ্রতিমকে ওই আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।এর আগে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে ওই কিশোরকে।পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই কিশোরের বাড়িতেও যায় লাশ উদ্ধারের আগে। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত আটটার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।


‘এক দফা হলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ’

‘এক দফা হলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ’

সরকারকে হতাশ হয়ে মাথা গরম না করার পরামর্শ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনতার দাবি মেনে নিন। জাতির প্রয়োজনে আট দফা যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে।আর এটি এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢাকা টু রংপুর ‘লং মার্চ’ পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রথম দফার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লং মার্চ আল্লাহর মেহেরবানিতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে।মাথা গরমের কিছু লক্ষণ গত দুদিন ধরে রাজধানীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না।জনগণের দাবি মেনে নিন।তিনি বলেন, আজকে ৮ দফা, মনে রাখবেন এটা ৯ দফা হতে পারে, ১০ দফা হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এটি এক দফায় পরিণত হতে পারে। আর এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।চক্রান্ত করে আন্দোলন দমানো যাবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তবে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না। আমরা কোনো কিছুকেই পরোয়া করব না। কারণ আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকে ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। যে লড়াই শুরু হয়েছে, দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লং মার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ঘোষিত রুট অনুযায়ী প্রথম পথসভা গাজীপুর বাইপাস (বগড়া), দ্বিতীয় পথসভা টাঙ্গাইলের নগর জলফই মোড়। এরপর দুপুরের বিরতি ও সালাত সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়। আরেকটি বিরতি/পথসভা হবে বগুড়া ও পলাশবাড়ীতে। সবশেষে রংপুরের ঐতিহাসিক জেলা স্কুল মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লং মার্চ শেষ হবে।লংমার্চের সার্বিক শৃঙ্খলার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক, মিডিয়া টিমসহ বিভিন্ন বিভাগ যুক্ত রয়েছে।সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন এবং লং মার্চের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন।


নবম পে-স্কেল কার্যকর হল

নবম পে-স্কেল কার্যকর হল

নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা এ আদেশে নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার এ আদেশ জারি করেছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির মোট অঙ্কের ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ যোগ করে দেওয়া হবে।এই অর্থ ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।নতুন বেতনস্কেল কার্যকর ধরা হলেও বেতন বৃদ্ধির পুরো টাকা প্রথম পর্যায়ে কর্মচারীরা পাবেন না।ধাপে ধাপে বর্ধিত বেতনের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এ অর্থ প্রদানের সময়সীমা ও হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর অন্যান্য বিধান অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও পরবর্তী অর্থ পরিশোধ করা হবে।প্রজ্ঞাপনটি এস. আর. ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ হিসেবে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।


মাইজভান্ডার যেখানে মন থেমে যায় হৃদয় কথা বলে সাংবাদিক  শাহজাহান বাশার

মাইজভান্ডার যেখানে মন থেমে যায় হৃদয় কথা বলে সাংবাদিক শাহজাহান বাশার

সাভারে ৫০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সাভারে ৫০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ

অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা

অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা

২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫২৭, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫২৭, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে সুমন-ফজলুর

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে সুমন-ফজলুর

রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

পটুয়াখালীতে মহাসড়কে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৪

পটুয়াখালীতে মহাসড়কে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৪

বিশ্বনেতাদের এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বনেতাদের এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর