মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। গ্যাসের চাপ কমে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে দেখা দিচ্ছে ঘন ঘন বিঘ্ন। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় কমছে রপ্তানি আদেশও।
সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে কোথাও কারখানার উৎপাদন কমছে, কোথাও আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সংকট সামাল দিতে শিল্পমালিকদের অতিরিক্ত ডিজেল কিনতে হচ্ছে, এমনকি সময়মতো পণ্য পাঠাতে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিমানভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্নের কারণে এশিয়ার স্পট এলএনজির দাম চলতি সপ্তাহে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধের আগে এ দাম ছিল প্রায় ১০ ডলার। শেলের হিসাবে, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ কমেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করা এলএনজিনির্ভর। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশকে এখন তুলনামূলক বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিকেএমইএর এক জরিপে দেখা গেছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ৫৫ শতাংশ কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে বা কমেছে। একই সময়ে ৭৮ শতাংশ কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সংকটের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে একটি পোশাক কারখানার ঘটনায়। গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদনের মাঝপথে কারখানাটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যায়। এতে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে মালিককে চীন থেকে কাপড় আনতে হয়। এতে উৎপাদনে বিলম্ব হওয়ায় এক বিদেশি ক্রেতা ৫০ হাজার পিসের অর্ডার কমিয়ে ৪০ হাজার পিসে নামিয়ে আনেন। অর্থাৎ শুধু জ্বালানি সংকটের কারণে এক ধাক্কায় কমে যায় ১০ হাজার পিসের রপ্তানি আদেশ।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও রপ্তানি ব্যয়ে। উৎপাদনে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে অনেক কারখানাকে স্বাভাবিক সমুদ্রপথের পরিবর্তে বিমানপথ বেছে নিতে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে পোশাকশিল্পের একজন নির্বাহীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, একটি কারখানাকে ফরাসি ক্রেতার কাছে হুডি জ্যাকেট সময়মতো পৌঁছে দিতে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বিমানভাড়া দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানা সচল রাখতে অতিরিক্ত ডিজেলও কিনতে হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য বিষয়টি শুধু বাড়তি ব্যয়ের নয়; আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শুধু শিল্পকারখানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, পোলট্রি ও স্বাস্থ্য খাতেও।
টাঙ্গাইলে এক পোলট্রি খামারি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শেডের বৈদ্যুতিক পাখা চালানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত গরমে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি মুরগি মারা যাচ্ছে বলে তিনি জানান। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতি দুটোই বাড়ছে।
হাসপাতালগুলোও এই সংকটের বাইরে নয়। সিলেটের একটি হাসপাতালে প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেনারেটরের সাহায্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র—আইসিইউ সচল রাখা গেলেও সাধারণ ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারও সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে অচল এলএনজি অবকাঠামো সচল করা এবং বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ রয়েছে।
জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু একটি শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না—শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহে কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমার পাশাপাশি বাড়ছে ডিজেল, পরিবহন ও বিমানপথে পণ্য পাঠানোর অতিরিক্ত ব্যয়। আর উৎপাদনে বিলম্ব হলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়ার ঘটনাও ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি করা এলএনজির ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ভর্তুকির চাপও সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলছে বলে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন কেবল জ্বালানি বাজারে সীমাবদ্ধ নেই; তা দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। গ্যাসের চাপ কমে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে দেখা দিচ্ছে ঘন ঘন বিঘ্ন। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় কমছে রপ্তানি আদেশও।
সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে কোথাও কারখানার উৎপাদন কমছে, কোথাও আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সংকট সামাল দিতে শিল্পমালিকদের অতিরিক্ত ডিজেল কিনতে হচ্ছে, এমনকি সময়মতো পণ্য পাঠাতে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিমানভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্নের কারণে এশিয়ার স্পট এলএনজির দাম চলতি সপ্তাহে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধের আগে এ দাম ছিল প্রায় ১০ ডলার। শেলের হিসাবে, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ কমেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করা এলএনজিনির্ভর। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশকে এখন তুলনামূলক বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিকেএমইএর এক জরিপে দেখা গেছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ৫৫ শতাংশ কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে বা কমেছে। একই সময়ে ৭৮ শতাংশ কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সংকটের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে একটি পোশাক কারখানার ঘটনায়। গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদনের মাঝপথে কারখানাটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যায়। এতে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে মালিককে চীন থেকে কাপড় আনতে হয়। এতে উৎপাদনে বিলম্ব হওয়ায় এক বিদেশি ক্রেতা ৫০ হাজার পিসের অর্ডার কমিয়ে ৪০ হাজার পিসে নামিয়ে আনেন। অর্থাৎ শুধু জ্বালানি সংকটের কারণে এক ধাক্কায় কমে যায় ১০ হাজার পিসের রপ্তানি আদেশ।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও রপ্তানি ব্যয়ে। উৎপাদনে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে অনেক কারখানাকে স্বাভাবিক সমুদ্রপথের পরিবর্তে বিমানপথ বেছে নিতে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে পোশাকশিল্পের একজন নির্বাহীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, একটি কারখানাকে ফরাসি ক্রেতার কাছে হুডি জ্যাকেট সময়মতো পৌঁছে দিতে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বিমানভাড়া দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানা সচল রাখতে অতিরিক্ত ডিজেলও কিনতে হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য বিষয়টি শুধু বাড়তি ব্যয়ের নয়; আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট শুধু শিল্পকারখানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি, পোলট্রি ও স্বাস্থ্য খাতেও।
টাঙ্গাইলে এক পোলট্রি খামারি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শেডের বৈদ্যুতিক পাখা চালানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত গরমে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি মুরগি মারা যাচ্ছে বলে তিনি জানান। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতি দুটোই বাড়ছে।
হাসপাতালগুলোও এই সংকটের বাইরে নয়। সিলেটের একটি হাসপাতালে প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেনারেটরের সাহায্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র—আইসিইউ সচল রাখা গেলেও সাধারণ ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শিল্পাঞ্চলগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারও সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে অচল এলএনজি অবকাঠামো সচল করা এবং বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ রয়েছে।
জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু একটি শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না—শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহে কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমার পাশাপাশি বাড়ছে ডিজেল, পরিবহন ও বিমানপথে পণ্য পাঠানোর অতিরিক্ত ব্যয়। আর উৎপাদনে বিলম্ব হলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়ার ঘটনাও ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি করা এলএনজির ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ভর্তুকির চাপও সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলছে বলে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন কেবল জ্বালানি বাজারে সীমাবদ্ধ নেই; তা দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন