মোঃ শাহজাহান বাশার
বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ের বিপরীতে মাত্র ১ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করে অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে বান্দরবান সদর হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন কমিটির সদস্যরা। তবে তদন্ত চলাকালে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. লেনিন তালুকদার, পার্বত্য জেলা পরিষদের পিএস টু চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আবুল মনসুর, নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা এবং হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা এম. মুহিব্বুল হাসান।
পরিদর্শন শেষে পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বান্দরবান সদর হাসপাতালের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমাদের তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন হয়েছে কিনা, টেন্ডারে উল্লেখিত ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী বাস্তবে ক্রয় করা হয়েছে কিনা এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কিনা—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করব। তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সিভিল সার্জনকে আগেই অবহিত করা হয়েছে।”
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জনের অধীনে ৪ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ের বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে প্রায় ১ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৩ কোটি টাকা পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি বুধবার সকাল ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে নথিপত্র, টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ওষুধ সরবরাহের তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করে। তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জেলা পরিষদে দাখিল করবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তদন্ত চলাকালে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
মোঃ শাহজাহান বাশার
বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ের বিপরীতে মাত্র ১ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করে অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে বান্দরবান সদর হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন কমিটির সদস্যরা। তবে তদন্ত চলাকালে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. লেনিন তালুকদার, পার্বত্য জেলা পরিষদের পিএস টু চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আবুল মনসুর, নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা এবং হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা এম. মুহিব্বুল হাসান।
পরিদর্শন শেষে পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বান্দরবান সদর হাসপাতালের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমাদের তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন হয়েছে কিনা, টেন্ডারে উল্লেখিত ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী বাস্তবে ক্রয় করা হয়েছে কিনা এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কিনা—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করব। তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সিভিল সার্জনকে আগেই অবহিত করা হয়েছে।”
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জনের অধীনে ৪ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ের বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে প্রায় ১ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৩ কোটি টাকা পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি বুধবার সকাল ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে নথিপত্র, টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ওষুধ সরবরাহের তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করে। তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জেলা পরিষদে দাখিল করবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তদন্ত চলাকালে তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন