সময় বেলা

নাহিদ আজাদ

নাহিদ আজাদ

সহ-সম্পাদক

যোগদান: 29 মে, 2026

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা

লালমনিরহাট প্রতিনিধিলালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক হৃদয় বিধারক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের পরদিন এক প্রাক-প্রাথমিক পড়ুয়া শিশুর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ভূট্টা ক্ষেত থেকে। সোমবার বিকেল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া এই শিশুটির মরদেহ  মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের গর্ত থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।নিহত সাত বছর বয়সী শিশুটির নাম নন্দিনী রানী। সে ওই এলাকার সাধারণ কৃষক  নলিনী কান্তের মেয়ে। এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। এই পৈশাচিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজিত এলাকাবাসী ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি ওই শিশু। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও তার হদিস পাননি। মঙ্গলবার ভোরের দিকে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের কিছু গাছ ভাঙা দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর খেতের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সদ্য খোঁড়া গর্তের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটির নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা প্রতিবেশী রঞ্জিত চন্দ্রের ছেলে বিধান চন্দ্রের (২৩) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে কয়েকটি ঘর ও ঘরের মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বহনকারী গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।অপরদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় আগের দিন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে ক্লোজ করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এরপর আগুনে পোড়া বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা অভিযুক্তের স্বজনদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এলাকারই কোনো দুর্বৃত্ত শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বস্তায় ভরে গর্তে পুঁতে রাখে।শিশুটির বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘গ্রামে কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। খুব সাধারণ জীবনযাপন করি। সোমবার দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে এক পাতিল থেকে ভাত খেয়েছি। ছোট্ট মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’শিশুটির মা আহাজারি করে বলেন, ‘বাড়ির পাশেই অনেকগুলো ভুট্টাখেত। হয়ত মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে বা জোর করে সেখানে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এরপর তাকে হত্যা করেছে। মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।’ লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আগুনে পোড়া বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি 

লালমনিরহাটে শিশু হত্যা