রূপগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন-রূপসী এলাকার জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মাসুদা বেগম। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।মাসুদা বেগম বলেন, রূপসী এলাকার বাসিন্দা মিলন ভূঁইয়ার কাছ থেকে তিনি ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি বিক্রির কিছুদিন পর বিক্রেতা জমি ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ওই জমিতে চারতলা ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা ভবন নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি শুরু হয়।তিনি অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন বিকেলে মিলন ভূঁইয়া, শ্যামল ভূঁইয়া, সেতু, লাকি আক্তারসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাড়িতে হামলা চালায়।হামলাকারীরা দা, চাপাতি, কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় তার স্বামী মীর মোসারফকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া ঘরে থাকা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।মাসুদা বেগম আরও বলেন, হামলাকারীরা তাকে ও তার ভাড়াটিয়াকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়া হয় এবং গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে ঘরে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা প্রাণে রক্ষা পান।তিনি জানান, ঘটনার সময় ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা (নং-৬৬৪/২০২৬) দায়ের করেন।গত কয়েক বছর ধরে একই পক্ষের লোকজন তাদের ওপর একাধিকবার হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানায় ৭ থেকে ৮টি অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।লিখিত বক্তব্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মাসুদা বেগম ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, পূর্বের অভিযোগগুলো পুনঃতদন্ত এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী মোশারফ হোসেন, বড় মেয়ে মার্জিয়া আক্তার, ছোট মেয়ে মাহীমা আক্তার রিপা।