সময় বেলা

৮৬ কোটি টাকার সেতুতে দুই দফা বিপর্যয়: ভেঙে পড়ল ৭টি গার্ডার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছিল ‘শাহ আরেফিন (রা.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু’। প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি এখন জনদুর্ভোগের কারণ। নির্মাণকাজ শুরুর আট বছর পার হলেও স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা, বারবার গার্ডার ধসে পড়ার ঘটনায় সেতুর স্থায়িত্ব ও তদারকি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে হঠাৎ করেই নির্মাণাধীন সেতুর ৫টি গার্ডার ভেঙে পড়ে। এর আগে আরও দুটি গার্ডার ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডারের সংখ্যা দাঁড়ালো সাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাতের আঁধারে সেতুর পাশেই অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। মাটির গভীর থেকে বালু সরায় সেতুর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান এবং যথাযথ তদারকির অভাবকেও এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন তারা।জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় এলজিইডি সম্প্রতি কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এবং নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু সোমবারের এই ধসের ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়াটি আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির প্রাক্কলন তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ আট বছরেও কাজ শেষ না হওয়া এবং গার্ডার ধসে পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা বিল থেকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা কর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।এদিকে তমা কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার আনিসুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

৮৬ কোটি টাকার সেতুতে দুই দফা বিপর্যয়: ভেঙে পড়ল ৭টি গার্ডার