সময় বেলা

জলঢাকায় জলাশয়জুড়ে কচুরিপানার ফুল, মুগ্ধ পথচারী ও দর্শনার্থীরা

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়, বিল ও নিচু জমিতে ফুটেছে কচুরিপানার বেগুনি ও সাদা ফুল। শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আগমনী আবহে জলাশয়জুড়ে কচুরিপানার ফুলের সমারোহে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতির এমন নান্দনিক রূপ উপভোগ করতে থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ঘুরে দেখা যায়, পানির ওপর ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানার ফুল কোথাও কোথাও তৈরি করেছে প্রাকৃতিক গালিচার মতো দৃশ্য। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা বেগুনি ও সাদা ফুলে জলাশয়গুলো পেয়েছে ভিন্ন রূপ। কোনো কৃত্রিম আয়োজন ছাড়াই প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে স্থানীয়দের।কচুরিপানার ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা স্থানীয় শিক্ষার্থী আজিজার ইসলাম বলেন, “প্রতিদিনের পড়ালেখার ক্লান্তি কাটাতে প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।”কাজের ফাঁকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী জিলবুর রহমান বলেন, “যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার পর গ্রামবাংলার এমন শান্ত পরিবেশ ও ফুলের সৌন্দর্য দেখতে চমৎকার লাগে। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক রূপ মনে একধরনের প্রশান্তি এনে দেয়।”স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা বেলাল আলী (৫০) বলেন, “একসময় বিল-ঝিলে এমন কচুরিপানার ফুল অনেক দেখেছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না।” কচুরিপানাকে ঘিরে তাঁর জীবনের অনেক স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।তবে কচুরিপানার ফুল জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ালেও এর অতিরিক্ত বিস্তার পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, জলাশয়ের ওপর অতিরিক্ত কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়লে পানিতে আলো প্রবেশ ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে। এতে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কচুরিপানার নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।ঋতুবদলের এই সময়ে জলঢাকার জলাশয়জুড়ে কচুরিপানার বেগুনি ও সাদা ফুল গ্রামীণ প্রকৃতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সাধারণ এই জলজ উদ্ভিদের ফুলই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির নিভৃত জলাশয় ও সবুজের মাঝে।

জলঢাকায় জলাশয়জুড়ে কচুরিপানার ফুল, মুগ্ধ পথচারী ও দর্শনার্থীরা