লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনে এমপির নির্দেশনার অভিযোগ
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনার অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালামের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে সোমবার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।প্রকাশিত কমিটিতে মুজিবুর রহমান দুলালকে সভাপতি, মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, তমিজ উদ্দিন আহম্মদ চুন্নুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সেলিম চৌধুরী হীরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এম. এ জলিলকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে।কমিটি গঠনের কারণ হিসেবে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, লাকসামে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের মান-মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে এমপি আবুল কালামের নির্দেশে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে।তবে একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা। সাংবাদিক সংগঠনের ওপর রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও করেছেন অনেকে।কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী ‘আমার দেশ’-কে বলেন, ‘বিষয়টি মারাত্মক। কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহার সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করতেন। আজকে দেখলাম লাকসাম প্রেস ক্লাবেও একই চিত্র। কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।’কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, ‘একজন এমপি উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি দিয়েছেন—এটা লজ্জাজনক। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর হস্তক্ষেপ। যদি বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’এ বিষয়ে নবগঠিত লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে পরে কথা বলবো।’অন্যদিকে, কমিটি গঠনে নিজের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ‘আমার দেশ’-কে বলেন, ‘আমি আংশিক কমিটি দিয়েছি। আমি প্রেস ক্লাবের প্যাডে কমিটি দিয়েছি।’প্রেস ক্লাব কোনো দলীয় সংগঠন নয়—এ অবস্থায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রেস ক্লাবের কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না, জানতে চাইলে আবুল কালাম বলেন, ‘আমার এলাকা হিসেবে আমি কমিটি দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি আমার উপরস্থ মহলের কথা বলেছি। আমার দলের সঙ্গে কথা বলে দিয়েছি। আমি তো আইনপ্রণেতা হিসেবে নতুন এসেছি।’প্রেস ক্লাবের মতো সাংবাদিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি নির্দেশনা বা হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক সংগঠনের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে।