রাউজানে আজিমুশশান জশনে রাহমাতুল্লিল আলামিন মাহফিল ও ফাতিহায়ে ইয়াজদাহুম উদযাপন সম্পন্ন
চট্টগ্রামের রাউজানে পবিত্র জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উপলক্ষে আজিমুশশান জশনে রাহমাতুল্লিল আলামিন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলে গাউসে পাক হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে শরিয়তের বিধান পালনের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরায় বায়তুল জান্নাত এবাদতখানার পাশের মাঠে হযরত গাউসে পাক আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা, মাশায়েখ, ভক্ত-অনুরাগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।মাহফিলে মেহমান-এ-আলা হিসেবে বক্তব্য দেন মাইজভাণ্ডার শরীফের সাজ্জাদানশীন, আওলাদে রাসুল (দ.), শাহজাদায়ে গাউছুল আজম, রাহবারে শরীয়ত ও তরিকত আলহাজ শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী আল-মাইজভাণ্ডারী।বক্তব্যে শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “গাউসে পাক আব্দুল কাদের জিলানী (রা.)-এর আদর্শে বাহ্যিক আমল ও আত্মশুদ্ধির সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ জীবন গড়তে হবে।” তিনি বলেন, শুধু বাহ্যিক ইবাদত পালন করলেই মানুষের জীবনে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিফলিত হয় না। ঈমান, আমল, চরিত্র ও আত্মশুদ্ধির সমন্বয়ের মাধ্যমে জীবনকে গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি ঈমানের দাবি হলো সেই বিশ্বাসকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা। নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজের মতো ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সত্যবাদিতা, বিনয়, ধৈর্য, সংযম, উত্তম আচরণ ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে।শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম নিজের নফস ও প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে। অহংকার, লোভ, হিংসা, লোকদেখানো মনোভাব ও অতিরিক্ত দুনিয়ামুখী আসক্তি থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। ইবাদতকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মাধ্যমে মানুষের হৃদয়, চিন্তা, আচরণ ও চরিত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।তিনি বলেন, গাউসে পাক আব্দুল কাদের জিলানী (রা.)-এর শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শরিয়তের বিধান অনুসরণ, অন্তরের পরিশুদ্ধি, আল্লাহর জিকির, নেক আমল এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা। বাহ্যিক আমল ও অভ্যন্তরীণ চরিত্রের সংশোধন—দুইয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই একজন মানুষ পরিপূর্ণতার পথে এগিয়ে যেতে পারে।মাহফিলের আগে গহিরা সুন্নীয়া কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহসূফি মওলানা সৈয়দ দোস্ত মুহাম্মদ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-মাইজভাণ্ডারী। এ সময় তাঁর আওলাদ মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ জুনুরাইন আল-কাদেরীসহ মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।মাহফিলের উদ্বোধন করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রেসিডিয়াম সদস্য হযরতুল হাজ মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ জুনুরাইন আল-কাদেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান গহিরা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরতুল হাজ আল্লামা মুহাম্মদ নুরুল মুনাওয়ার চৌধুরী।প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকার মোহাম্মদপুর জামেয়া কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হযরতুল হাজ আল্লামা মুফতি হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান আল-কাদেরী। বিশেষ আলোচক ছিলেন রাউজান দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হযরতুল আল্লামা কাজী মুহাম্মদ ইউনুস রেজভী।বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত রাউজান পৌরসভা শাখার সভাপতি হযরতুল হাজ আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চিশতী, কালাচাঁদ চৌধুরী জামে মসজিদের খতিব হযরতুল হাজ মাওলানা মুহাম্মদ শফিকুল রহমান, হযরত মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ ফিরোজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হযরত গাউসে পাক আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ফাউন্ডেশনের সভাপতি হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আবু নাসের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাঙ্গুনিয়া আল-আমিন হামেদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ বেলাল রেজা।অনুষ্ঠানে মাওলানা আবু তাইয়্যেব ফারুকী, মাওলানা জামাল উদ্দিন আল-কাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা আইনুল আবেদীন, মাওলানা মুহাম্মদ নূর উদ্দিন, হাফেজ মুহাম্মদ রুহুল আমিন, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ এরশাদ খন্দকার, মাওলানা মুহাম্মদ মাহিউদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম, মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার, হাফেজ মুহাম্মদ ইলিয়াস, মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম কাদেরী, মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল মুত্তাকিন, মাওলানা শওকত হোসাইন তৈয়্যবী, মাওলানা মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন সাবিকর, হাফেজ মুহাম্মদ মিজান, মাওলানা কাজী মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহিদসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।শেষ পর্যায়ে শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-মাইজভাণ্ডারী আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন।