উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণ কিশোরদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে নতুন করে ৩৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে চার দফার অভিযানে মোট ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা অংশ নেন। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও অপরাধপ্রবণ কিশোরদের আনাগোনা রয়েছে—এমন সন্দেহজনক স্থানগুলো চিহ্নিত করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও ছুরি উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।পুলিশ সূত্র জানায়, এর আগে তিন দফায় পরিচালিত অভিযানে ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। তার আগে দুই দফার অভিযানে আটক করা হয় ৮৭৮ জনকে। সর্বশেষ মঙ্গলবার আরও ৩৭৯ জনকে আটকের মধ্য দিয়ে চার দফার অভিযানে মোট আটক ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭২ জনে।তবে আটক ব্যক্তিদের সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কিংবা অপরাধী নন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বয়স, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, পূর্বের অপরাধের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত ও যাচাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কিশোর অপরাধের বিস্তারের পেছনে পারিবারিক অসচেতনতা, অসৎ বন্ধুত্ব, মাদকাসক্তি, রাতের আড্ডা এবং স্থানীয় অপরাধীচক্রের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।জেলা পুলিশের ধারাবাহিক এ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে সুরক্ষার বিষয়টি এ অভিযানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।