উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় ১৪ লাখ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পাচারে ব্যবহৃত একটি নৌকাও জব্দ করা হয়েছে।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার জয়র দাশ ও মো. হোসাইনকে আটক করা হয়। হ্নীলা চৌধুরীপাড়া সুইচগেট-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালানসহ তাদের আটক করে বিজিবি। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।বিজিবি সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবার একটি বড় চালান প্রবেশের চেষ্টা চলছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে জেলের ছদ্মবেশে একটি নৌকায় করে ইয়াবার চালান নিয়ে হ্নীলা বিওপির সুইচগেট এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছিল।এ সময় নৌকাটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবির টহল দল নৌকাটিকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে দুজনকে আটক করেন। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে নৌকার ভেতরে কোনো মাদক পাওয়া না গেলেও নৌকার সঙ্গে রশি দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে রাখা কয়েকটি বস্তা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা।পরে বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালানো হলে ১৪০টি কার্টন পাওয়া যায়। এসব কার্টনের ভেতর থেকে মোট ১৪ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। বিজিবির ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে পাচারকারীরা নৌকার ভেতরে ইয়াবা না রেখে রশি দিয়ে বস্তাগুলো নৌকার সঙ্গে বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে রেখেছিল।বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছিল। এরই ফলে বড় ধরনের ইয়াবার চালানটি বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। আটক দুজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সীমান্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচারে জড়িত চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। নৌকার সঙ্গে রশি বেঁধে পানিতে ইয়াবার বস্তা ভাসিয়ে পাচারের ঘটনাটি তারই একটি নজির। তবে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে এবারও বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।