উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র টাউন হল মাঠে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মাওলিদুন্নবী (সা.) সেলিব্রেশন ২০২৬’। সুন্নী ইয়ুথ বাংলাদেশ আয়োজিত এ মাহফিলে কুমিল্লা জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, মাহফিলে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন শায়েখ ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারি। এ সময় কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।মাহফিলকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কুমিল্লা নগরীর টাউন হল ও আশপাশের এলাকায় মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের উপস্থিতিতে টাউন হল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মাহফিলের বক্তব্য শোনেন।বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে। নারী-পুরুষ, তরুণ ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের মধ্যে মাহফিলকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।মাহফিলে প্রধান বক্তা শায়েখ ড. সাইফুল আজম বাবর আজহারি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম, আদর্শ ও মানবিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, মানবিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বক্তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার জন্য শান্তি, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও ইসলামের শান্তির বার্তায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।মাহফিলে কুমিল্লা জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পীর-মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।আয়োজক সংগঠন সুন্নী ইয়ুথ বাংলাদেশ জানায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানুষের মাঝে তুলে ধরা, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।মাহফিল উপলক্ষে টাউন হল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক মানুষের সমাগম হওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসল্লিরা দলবদ্ধভাবে মাহফিলে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলে ধর্মীয় আলোচনা ও মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা।মাহফিলের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে মাহফিলে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।আয়োজকরা বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।