উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার অলিপুরে ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে বাড়িতে অবস্থান নিয়ে গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুন (৬০)–কে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর তাঁর ঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।ঘটনার প্রায় চার মাস পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লা জেলা। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭), আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এক শিশু এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন (৩১)।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে সকালে চান্দিনার অলিপুরে নিজ বসতঘর থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর ঘরের কাঠের আলমিরা খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, বাড়িতে অবস্থান করা ধানকাটা শ্রমিকরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে।এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় মামলা করেন। মামলাটি চান্দিনা থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ ৩ মে ২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ৩৮০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।মামলাটি থানা-পুলিশ সাত দিন তদন্তের পর পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ১০ মে পিবিআই কুমিল্লা জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (নিঃ) মো. আমিরুল ইসলাম।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পিবিআই। অভিযানে শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এক শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারী ঘাটে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে ধান কাটার শ্রমিকের ছদ্মবেশে তাঁরা কুমিল্লায় এসে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।তদন্তে জানা যায়, কাজ না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন রাতে ছমিরন খাতুন ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ছমিরন খাতুন ও তাঁর স্বামী একই ঘরের দুই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান শ্রমিকরা। বাড়ির অন্য একটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন নিহতের ছেলে ও তাঁর স্ত্রী।পিবিআইয়ের দাবি, পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর তাঁর পরিহিত স্বর্ণালংকার ও ঘরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।তদন্তকারী সংস্থা আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।পিবিআই জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের পুরোপুরি উদ্ধারসহ অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।