উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ের চেয়ারম্যান গলিতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় নেওয়া হয়। বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় করা মামলাগুলোতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে সাজ্জাদ হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ের চেয়ারম্যান গলিতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সাজ্জাদ হোসেন সক্রিয় ছিলেন। সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণায় তিনি অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে তার বিভিন্ন পোস্ট ও প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পৃথক কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।সাজ্জাদ হোসেন বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা সাজ্জাদ হোসেন বুড়িচংয়ের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালেও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।এদিকে সাজ্জাদ হোসেনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।