উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা, বৈজ্ঞানিক চর্চা এবং দক্ষ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি (CASH) বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো জেলা পর্যায়ে “হোমিওপ্যাথিক বিজ্ঞান সেমিনার-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রশাসক, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডা. এম. এ. কাদের, চেয়ারম্যান, ক্যাশ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব ডা. এম. এ. কাদের খাঁন, আহ্বায়ক, হোমিওপ্যাথিক বিজ্ঞান সেমিনার প্রস্তুতি কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যান, ক্যাশ বাংলাদেশ।সকাল ১০টার পর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ক্যাশ বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মাহবুব হাফিজ, ডা. সৈয়দ সাইদুর রহমান কামাল, জেনারেল সেক্রেটারি ডা. আব্দুল মজিদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. এম. এ. মামুন ভূঁইয়া, জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. মো. জামাল আহাম্মদ খান, ডা. জাকির হোসেন, কুমিল্লার হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, বলতলী হাজী বাদশা-আমেনা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল্লাহ মোতালেব, কুমিল্লা সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরামের সভাপতি ডা. এফ. জামান, প্রভাষক রোটারিয়ান ডা. আবদুছ ছাত্তার ভূঁইয়া (মহিউদ্দিন) এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শামীম হায়দার।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা উপস্থাপন করেন ডা. আবুল বাশার, ডা. সাদিয়া আলম কথা এবং ডা. মো. মোস্তাফা কামাল বিজয়। বক্তারা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, আধুনিক গবেষণা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন, চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “মানুষের চিকিৎসাসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে যারা আন্তরিকভাবে গবেষণা ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. এম. এ. কাদের বলেন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে আরও যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, তথ্যভিত্তিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসকদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ক্যাশ বাংলাদেশ এ লক্ষ্যেই সারা দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।সভাপতির বক্তব্যে ডা. এম. এ. কাদের খাঁন বলেন, জেলা পর্যায়ে এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।দুপুরে জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দ্বিতীয় অধিবেশনে আরও কয়েকটি বৈজ্ঞানিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভ করেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, আলোচক ও অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং অংশগ্রহণের সনদ বিতরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী হোমিওপ্যাথিক বিজ্ঞান সেমিনারের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও জনমুখী করে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।