উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শেখ আরিফ, বন্দর প্রতিনিধি ||
ভার্চুয়াল জগতের ‘ওমেটিভি’ অ্যাপে আলাপ, এরপর রূপালী পর্দার গল্পের মতো গভীর প্রেম। কিন্তু সেই প্রেমের আড়ালেই যে ওত পেতে ছিল এক ভয়ঙ্কর ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদ, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম। প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে বন্দরে পা রাখতেই মুহূর্তের মধ্যে স্বপ্ন রূপ নিলো দুঃস্বপ্নে। ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি, দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন এবং আইফোনসহ সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপরাধ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।মঙ্গলবার (৩০ জুন) গভীর রাতে বন্দরের একরামপুর তালতলা এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই চক্রের ৭ সক্রিয় সদস্যকে পাকড়াও করে।পরে বুধবার (১লা জুলাই) ধৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলো একরামপুর এলাকার মোঃ কাওসার (২০), মোঃ রবিন (২২), শান্ত (২৩), গোলাম রাব্বী (৩০) ও আরিফ (২৮)। এছাড়া নবীগঞ্জ বাগবাড়ি এলাকার রনি কাজী (২২) এবং কদমরসুল মাঠপাড়ার সাকিব (২৫)।তথ্যমতে,মামলার এজাহারের বিবরণী যেন কোনো ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্য। ঢাকার উত্তর ভাষানটেক এলাকার বাসিন্দা ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (IUB) বিবিএ ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম মজুমদারের সাথে সম্প্রতি ওমেটিভি (OmeTV) অ্যাপে পরিচয় হয় আরফা তানিয়া (২২) নামের এক তরুণীর। রূপের মোহে পড়ে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে দেখা করার অছিলায় নজরুলকে বারবার বন্দরের কদমরসুল কলেজের সামনে আসার জন্য ব্যাকুলতা দেখায় তানিয়া। সেই ব্যাকুলতায় সাড়া দিয়ে গত ১৮ মে কদমরসুল কলেজের সামনে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হন ওই শিক্ষার্থী। ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এক নির্জন ডেরায়।অপহৃত শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে রামদা ও ধারালো অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মুহূর্তেই তার পকেট থেকে কেড়ে নেওয়া হয় নগদ ২০ হাজার ৮০০ টাকা এবং একটি অতিমূল্যবান ‘আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স’ হ্যান্ডসেট। এরপর পিন নম্বর দিতে বাধ্য করে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা লুটে নেয় চক্রটি।এখানেই শেষ হয়নি এই নরকীয় বর্বরতা। নজরুলের পরিবারকে ফোন করে আরও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তার ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেলে রেখে চম্পট দেয় অপরাধীরা।এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামালউদ্দিন জানান,এটি একটি সুসংগঠিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন চ্যাটিং অ্যাপকে হাতিয়ার করে এরা দীর্ঘদিন ধরে বিত্তবান ঘরের তরুণদের ফাঁদে ফেলছিল। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের পর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামি। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে একরামপুর তালতলা থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের মাস্টারমাইন্ড আরফা তানিয়াসহ বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।