উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ কদমতলী গাউছিয়া মইনীয়া সাইফীয়া সুন্নীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ শুনানি শেষ হওয়া হাফেজ শিক্ষার্থীদের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান ও শাহাদাত-এ কারবালা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কুরআনুল কারিমের হিফজ সমাপ্ত করা ৬ জন হাফেজকে দস্তারে ফজিলত ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। বুধবার (১৭ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাইজভাণ্ডার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভান্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী।এ সময় তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘কারবালা প্রান্তরে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হোসাইন (আ.) এবং নবী পরিবারের সম্মানিত সদস্যবর্গ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, তবুও জালিম এজিদের সাথে আপস করেন নি। তাদের এ মহান আত্মত্যাগ বিশ্বের মানবতাবাদী প্রতিটি মানুষের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা। নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে শোষকশ্রেণীর হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এজিদী জালিমদের দুর্গ গুড়িয়ে দিতে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আদর্শ আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।’তিনি আরো বলেন, ‘কারবালার ঘটনা প্রমাণ করে, জুলুম করে কখনো ক্ষমতাকে স্থায়ী করা যায় না ; বরং যারা সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রাম করে নিজেদের জীবনকে বিসর্জন দেন, তারাই চিরকাল বেঁচে থাকেন অজস্র হৃদয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে।’ তিনি বলেন, ‘ইমাম হোসাইন (আ.)-এর প্রেরণা মজলুমদেরকে একতার শক্তিতে বলীয়ান করে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করতে উদ্বুদ্ধ করে। এ জন্য ১৪০০ বছর আগে থেকেই কারবালার চেতনাকে, ইমাম হোসাইন (আ.) ও নবীপরিবারের সদস্যদের আত্মত্যাগের স্মরণকে দমিয়ে রাখার জন্য এজিদী খারেজী নাসেবী জুলুমবাজ শ্রেণী সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে আসছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এক শ্রেণীর মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা কারবালার প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা শেখ সিরাজুল ইসলাম আল ক্বাদেরীর সভাপতিত্বে মাহফিলে আলোচক ছিলেন, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুহাম্মদ কেরামত আলী, শায়ের মাওলানা মনছুর আলী, হাফেজ ক্বারী মাওলানা খাজা বাহাউদ্দীন, মাওলানা মুজিবুর রহমানসহ আরো অনেকেই। এ সময় মাদ্রাসার দাতা সদস্য খলিফা সোহেল আহমেদ মাইজভান্ডারী, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ রাসেল, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভান্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী।