উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মো. শাহজাহান বাশার, মহানগর প্রতিনিধি ||
মো. শাহজাহান বাশাররাজধানীর কেআইবি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উদ্বোধন করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। দেশের ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার কার্যক্রমের সূচনা ঘোষণা করেন। পরে তিনি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর Krishibid Institution Bangladesh প্রাঙ্গণে, যেখানে কৃষিবিদ, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতে ফল উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় ফল উৎপাদন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই নয়, বরং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নত জাতের ফল উৎপাদন, গবেষণা এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফল এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে একটি লাভজনক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে।জাতীয় ফল মেলা ২০২৬-এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা নানা জাতের দেশীয় ও আধুনিক ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের ফল স্থান পেয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নতুন জাতের ফল চাষের প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতি প্রদর্শন করছেন, যা সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।মেলায় অংশগ্রহণকারী দর্শনার্থীরা সরাসরি কৃষি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। পুরো মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে রয়েছে উৎসবের আমেজ, প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও কৃষি উদ্ভাবনের সমন্বিত চিত্র।আয়োজকরা জানিয়েছেন, জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ আগামী কয়েকদিনব্যাপী চলবে এবং প্রতিদিনই নানা সেমিনার, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় ফল মেলা শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং দেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।